জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ তীব্র গরমের মধ্যে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোটো প্রিফেকচারে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর থেকে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগে একটি শপিং সেন্টারের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে কয়েকজন নিহত হন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৩০ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে অঞ্চলটিতে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে তাদের নিরাপদ রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় জীবিতদের পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদেরও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বুধবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি কুমামোটোতে ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার পাঠানোর ঘোষণা দেন। এর মধ্যে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল। মূল ভূমিকম্পের পর থেকে ১০০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযানে হাজারো কর্মী অংশ নিয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর একটি কাশিমা শহরের এওন শপিং সেন্টারে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়েছিল। পরে সেখানে একটি বিস্ফোরণও ঘটে।
এওনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এটি সম্ভবত গ্যাস বিস্ফোরণ ছিল। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন। ভূমিকম্পের সময় শপিং মলের একটি ক্যাট ক্যাফেতে থাকা ২৫টি বিড়ালকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার কারখানার একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কারখানায় ১১ জন আটকা পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে। মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হওয়া এ ভূমিকম্পে কুমামোটোজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইয়াতসুশিরো শহরের ৭৫ বছর বয়সী রেস্তোরাঁ মালিক হিরোকো ওগাতা বিবিসিকে বলেন, ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি একটি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, আমি ৭৫ বছর ধরে এখানে বাস করছি, কিন্তু এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আগে কখনও দেখিনি। আমার মনে হয়েছিল আমি আর বাঁচব না।







