ছোট পর্দায় দাপটের সঙ্গে দীর্ঘ চার দশক ধরে অভিনয় করেছেন মাসুম আজিজ। অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে তিনি চিত্রনাট্যকার ও নাট্যনির্মাতা।
মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের খ্যাতি রয়েছে তার। ঘানি, গহীনে শব্দ, এই তো প্রেম, গাড়িওয়ালাসহ একাধিক চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। এই অভিনেতার আজকের এই অবস্থানে আসার গল্পটা এতোটা সহজ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ঢাকায় এসে মঞ্চে কাজ করতেন তিনি।
৭০-এর দশকে ভালো চাকরি পেলেও করেননি। শুধু অভিনয়কে ভালোবেসে এই কাজটি করে গেছেন। এ কারণে তাকে দিনের পর দিন না খেয়ে কাটাতে হয়েছিল।
অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশ পদকে ভূষিত হয়েছেন মাসুম আজিজ। এই সাফল্যে গত ফেব্রুয়ারিতে শিল্পকলা একাডেমিতে অভিনয় শিল্পী সংঘের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল।
সেখানেই অভিনেতা ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের দিনগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছিলেন মাসুম আজিজ। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেছিলেন, ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক ভালো রেজাল্ট নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। থিয়েটার করে অভিনেতা হবো এই জেদ থেকে ভালো চাকরি পেলেও ঢাকা ছাড়তে হবে শুনে করিনি। এতে একটা সময় চরম অর্থ কষ্টে দিন কাটে। কতবেলা না খেয়ে থেকেছি হিসেব নেই।
‘তখন রামপুর থেকে হেঁটে টিএসসি যেতাম। আবার হেঁটে ফিরতাম। ফেরার সময় আধা কেজি চাল আর দুটো আলু কিনে বাসায় ফিরতাম।’
‘এগুলো খেয়ে না খেয়ে আমার দিন কাটতো। ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকার একটি থিয়েটারের সঙ্গে মঞ্চ শ্রমিক হিসেবে যুক্ত হই। কিন্তু হাল ছাড়িনি। একদিনের জন্য থিয়েটার ও অভিনয় থেকে দূরে সরে যাইনি। ৯০ দশকের পর থেকে আমার ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করে। তখন অভিনয় করে অনেক অর্থ রোজগার করেছি। এই অর্থ দিয়ে সন্তান মানুষ করেছি। এত কষ্ট করার পর যখন একুশে পদক পেলাম সেদিন সত্যি আমার কান্না আসে।’
লাইফ সাপোর্টে থাকাকালীন মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে মাসুম আজিজ। সপ্তাহখানেক আগে ক্যানসারে আক্রান্ত মাসুম আজিজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় তাকে শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় ও সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পাবনায় গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে মাসুম আজিজকে।








