অবশেষে নয়াদিল্লির রাস্তায় থাকার অধিকার পেল বেওয়ারিশ কুকুর

A person holding a protest sign with a puppy behind bars and the message ‘Save Stray Dogs’ in Bengali and English. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
বহু বিতর্ক ও আইনি টানাপোড়েনের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক সংশোধিত রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশের যেকোনো শহরের বেওয়ারিশ কুকুরদের রাস্তায় বসবাস করার অধিকার রয়েছে—তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে।
আজ (২৩ আগস্ট) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বেওয়ারিশ কুকুরদের প্রথমে ধরা হবে। তাদের স্টেরিলাইজ ও টিকা প্রদান করা হবে। এরপর আবার তাদের নিজ নিজ এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে। শুধুমাত্র জলাতঙ্কে আক্রান্ত বা প্রমাণিত আক্রমণাত্মক প্রাণীদেরই আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে।
এছাড়াও, কুকুরদের প্রকাশ্যে খাওয়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার বদলে নির্দিষ্ট স্থানে খাবার বিতরণের পরামর্শ দিয়েছে আদালত। তবে এর আগে গত ১২ আগস্ট, শিশুদের ওপর একাধিক কুকুর আক্রমণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি আদেশ দেয়, যেখানে বলা হয় রাজধানীর রাস্তাগুলো বেওয়ারিশ কুকুরদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না।
আদালতের ভাষায়, আট সপ্তাহের মধ্যে এই প্রাণীদের ধরে স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। এই রায় প্রকাশের পর প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, বিশেষত মুম্বাইয়ের রাস্তায় আন্দোলনে নামে অসংখ্য পশুপ্রেমী।
তারা যুক্তি দেন, দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ১০ লক্ষেরও বেশি কুকুরের জন্য স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত নয়। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ পূর্বের আদেশ পুনর্বিবেচনা করে তা স্থগিত রাখে এবং সংশোধিত একটি রায় ঘোষণা করে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে হায়দ্রাবাদে চার বছর বয়সী একটি শিশুর নির্মম মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সিসিটিভিতে ধারণ করা ওই হামলার দৃশ্য গণমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং কুকুর-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৩ সালে ভারতে প্রায় ৩৫ লক্ষ কুকুর কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে মৃত্যু হয়েছে ২৮৬ জনের।






