গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের কয়েকটি কারাগারে বিশৃঙ্খলা করেন বন্দিরা। বিভিন্ন কারাগারে হামলা-ভাঙচুরের পর পালিয়ে যান মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ও জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত আসামিরা। এখন পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত ৭০ জঙ্গি পলাতক রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বকশিবাজারে অবস্থিত কারা অধিদপ্তরে কারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গৃহীত ব্যবস্থাদি সম্পর্কিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এ কথা বলেন।
পলাতক বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি কতজন রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক বলেন: দণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন জঙ্গি পালিয়েছে। এছাড়া বিচারাধীন মামলার অনেক জঙ্গি পালিয়েছেন এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন জঙ্গি পলাতক রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি পালিয়েছিল মোট ৯৮ জন। তাদের মধ্যে অনেককে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের সব কারাগারের ধারণক্ষমতা কত ও বর্তমানে কত বন্দি রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: বর্তমানে দেশের সব কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৪২ হাজারেরও কিছু বেশি। এই মুহূর্তে আমাদের কারাগারে আছে ৫০ হাজারেরও বেশি বন্দি।
কারাগারে হামলার সময় কত আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছে জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক বলেন: কারাগার থেকে ৯৪টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এখনো উদ্ধার করা বাকি আছে ২৯টি অস্ত্র। অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মোট সংখ্যা ৬৫টি।
কারাগারে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন: যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটা দাগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আমি অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নিচ্ছি। কিছু ব্যবস্থা শিগগির দেখা যাবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে সৎ অফিসারদের আমরা পদায়ন করছি। লম্বা সময় ধরে কিছু লোক একই জায়গায় কাজ করছিল তাদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত কারাগার থেকে সাধারণ মানুষসহ কতজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বের হয়ে এসেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: এ রকম আলোচিত মোট ৪৩ জন বন্দি এখন পর্যন্ত কারাগার থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও শীর্ষ জঙ্গি এসব মামলায় যারা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে ছিলেন।
কারাগারের হামলার ঘটনায় কতগুলো মামলা করা হয়েছে এবং এসব মামলায় কাদের আসামি করা হয়েছে? জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক বলেন: যেসব কারাগারে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল আমরা প্রতিটাতেই মামলা করেছি। মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি করতে পারিনি, কারণ পরিস্থিতি যেহেতু ভিন্ন ছিল। অজ্ঞাতনামা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আটটি কারাগারে বিশৃঙ্খলার দায়ে ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। সব মিলে ১৭টি কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।







