বিশ্বখ্যাত কফি ব্র্যান্ড স্টারবাকসের বিরুদ্ধে ট্রেডমার্ক মামলায় জয় পেয়েছে পাকিস্তানের করাচিভিত্তিক ‘সাত্তারবাকস’ নামের একটি ক্যাফে। আদালতের এই রায়কে স্থানীয় সৃজনশীলতার একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গালফ নিউজ জানিয়েছে, স্টারবাকসের সঙ্গে মিল থাকা নাম ও লোগো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয় অনলাইনে। অনেকেই এটি ব্যঙ্গাত্মক মনে করলেও, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে গড়ায়। যদিও মামলার সময় পাকিস্তানে স্টারবাকসের কোনো অফিসিয়াল আউটলেট ছিল না।
২০১৩ সালে চালু হওয়া সাত্তারবাকশ কেবল কফির জন্য নয়, বরং এর ব্যতিক্রমধর্মী ও মজার ব্র্যান্ডিংয়ের জন্যই বেশি পরিচিত। ক্যাফেটির গোলাকার সবুজ লোগোতে একটি গোঁফওয়ালা পুরুষের ছবি রয়েছে, যা অনেকের কাছে স্টারবাকসের বিখ্যাত ‘মারমেইড’ লোগোর মজার সংস্করণ মনে হয়েছে।
স্টারবাকস অভিযোগ তোলে যে, সাত্তারবাকশের ব্র্যান্ডিং গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং স্টারবাকসের ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে সাত্তারবাকশের প্রতিষ্ঠাতা রিজওয়ান আহমদ ও আদনান ইউসুফ দাবি করেন, তাদের ব্র্যান্ড কোনো অনুকরণ নয়, বরং এটি পাকিস্তানি সংস্কৃতি ও ব্যঙ্গধর্মী কনসেপ্ট থেকে অনুপ্রাণিত।
সাত্তারবাকশ নামটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোগোতে গোঁফওয়ালা পুরুষের ছবি, ভিন্ন ফন্ট এবং আলাদা রঙের ব্যবহার করে তারা নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। তারা স্পষ্টভাবে ডিসক্লেইমারও যুক্ত করেন, যাতে বোঝানো হয়— তাদের কোনো সম্পর্ক স্টারবাকসের সঙ্গে নেই।
ক্যাফেটির মেনুও বেশ ব্যতিক্রমী। সেখানে রয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খাবারের মিশেল, যেমন—বার্গার, পিজ্জা, এমনকি শীশাও। ক্যাফেটির ‘বেশরম বার্গার’ (যা বান ছাড়া পরিবেশিত), কিংবা ‘এলওসি পিজ্জা’ (যার অর্ধেক নিরামিষ ও অর্ধেক আমিষ, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তকে রেফার করে)—এসবই কাব্যিক ব্যঙ্গ ও সৃজনশীলতার দৃষ্টান্ত।
পাকিস্তানের ট্রেডমার্ক আইনে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পরিচিতি রক্ষা নিশ্চিত করা হয়। তবে আদালত মনে করে, সাত্তারবাকশ কোনো বিভ্রান্তিকর নকল নয়, বরং এটি ব্যঙ্গ, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও স্বতন্ত্রতা দিয়ে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। সাত্তারবাকশ ক্যাফে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে বলে রায়ে জানানো হয়।
এই রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি বিরল ঘটনা যেখানে একটি স্থানীয় ব্র্যান্ড বৈশ্বিক কর্পোরেট জায়ান্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে।










