প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা উচিত নয়। বিশেষ করে বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়ানো গুজব যাচাই না করে প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গুজবের উৎস শনাক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনি যাচাইহীন তথ্য প্রচার করাও বড় সমস্যা। একটি সংবাদ প্রকাশের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য অনেক সময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও তা সবসময় বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গুজব দমনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে বা যাচাই ছাড়া প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
সারা দেশে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সেশনজট কমাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পাবলিক পরীক্ষা শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং সব পক্ষ থেকেই ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
এইচএসসি পরীক্ষার সেশনজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নির্ধারিত দুই বছরের কোর্স শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে জানুয়ারি থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করা যায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।
গুজব প্রতিরোধ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন গুজবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।








