টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। দেশের মাটিতে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলতে চান। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিবের দেশের মাটিতে খেলার বিষয়টি জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে তাকে। সেজন্য ঘরের মাঠে শেষ টেস্ট খেলার জন্য নিরাপত্তা ও নিরাপদে দেশ ছাড়ার নিশ্চয়তা চেয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার।
সাকিবের নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তার এখতিয়ার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাতে নেই, মন্তব্য করেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। পুরো ব্যাপারটি ঠেলে দিয়েছেন সরকারের কোর্টে। বলেছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি বোর্ড দেখবে না। সেই বিষয়ে কথা বললেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। সেখানে সাকিবকে রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্কার করতে বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।
রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের জায়গা থেকে রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিককেই নিরাপত্তা দিতে বাধ্য এবং সেটা আমরা অবশ্যই করবো। এখানে সাকিব আল হাসানের পরিচয় দুইটা, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। খেলোয়াড় হিসেবে একটা পরিচয়, আরেকটা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয়। উনি আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে এমপি নির্বাচন করেছিলেন। মানুষের মধ্যে এই দুইটা নিয়েই মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে।’
‘এখন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের একজন খেলোয়াড়কে যতটুকু নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব, সেটা দেবো, দেশে এলে আমরা দেবো। তার নামে যে হত্যা মামলা হয়েছে, সেটার বিষয়ে আমরা বলেছি, আইন মন্ত্রণালয়ই বলেছে, সংশ্লিষ্টতা না থাকলে প্রাথমিকভাবেই নামটা বাদ দেয়া হবে।’
‘কিন্তু ওনার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জনগণের মধ্যে যদি ক্ষোভ থাকে, তাহলে…। মনে করেন আমার নিরাপত্তায় পাঁচজন পুলিশ কনস্টেবল থাকে, একজন গানম্যান থাকে। আমার উপরে যদি দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি জনগণের ক্ষোভ থাকে, তাহলে এই পাঁচ ছয়জন আমাকে কী নিরাপত্তা দেবে? আমারও সেই ক্ষেত্রে নিরাপদ থাকার সুযোগ নেই।’
‘সেক্ষেত্রে জনগণের যদি কোথাও ক্ষোভ থাকলে সেটা তো আমাকেই রিডিউস করতে হবে, আমার কথা দিয়ে। আমার যেটা মনে হয়, ওনাকে ওনার জায়গাটা পরিষ্কার করা প্রয়োজন, রাজনৈতিক জায়গা থেকে। ওনার যে রাজনৈতিক অবস্থান, সেটা নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা কথা বলেছেন সে বিষয়টি নিয়ে।’
‘জনগণের পক্ষ থেকে যদি নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে, সেটা কেউ কাউকে দিতে পারবে না, শেখ হাসিনাকেও নিরাপত্তা দেয়া যায়নি, তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সেই জায়গাটা, রাজনৈতিক বিষয়টা, পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। একজন খেলোয়াড় হিসেবে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব আমরা পালন করব।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলায় এজহারনামীয় আসামী করা হয়েছে তাকে।







