বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মো. খলিলুর রহমানের সঙ্গে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম টেলিফোনে আলাপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মো. খলিলুর রহমান এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত টেলিফোন আলাপচারিতাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়।
এই আলোচনা দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করার যৌথ প্রত্যয়ের প্রতিফলন।

মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম তার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বার্তায় উল্লেখ করেন যে, উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলাপচারিতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মো. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
তিনি তার দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করেন।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় করেন এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে অভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে নিয়মিত সংলাপ, ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ইতিবাচক ও গঠনমূলক যোগাযোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্কের গুরুত্বকে তার সরকারি বার্তার মাধ্যমে পুনর্ব্যক্ত করায় মাননীয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হাইকমিশনার বলেন, এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন এবং উভয় সরকারের মধ্যে সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি প্রদান করেছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বন্ধুত্ব, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী জনগণ-জনগণ যোগাযোগের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমবাজার, মৎস্য, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক সহযোগিতা, পর্যটন, সংযোগ বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
হাইকমিশনার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণের মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের অবস্থান অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশ ধারাবাহিকভাবে একে অপরকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশন পুনর্ব্যক্ত করছে যে, দুই দেশের সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও অগ্রাধিকারের আলোকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী, বহুমাত্রিক এবং ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে হাইকমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপ সরকারের প্রতি তাদের অব্যাহত সহযোগিতা, বন্ধুত্ব এবং আন্তরিক সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছে।







