নির্মাতা আরিফ খান পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্মাণ করেছেন টেলিছবি ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’। চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত এই বিশেষ টেলিছবিতে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে ফেরদৌসী মজুমদার, আফজাল হোসেন, মামুনুর রশীদ, তৌকীর আহমেদ, দীপা খন্দকার, রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মমর মতো গুণী অভিনয়শিল্পীদের!
জানা যায়, এই টেলিছবির যাত্রা শুরু হয় একটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে। গত বছর একটি নাটকের শুটিং চলাকালে আফজাল হোসেন নির্মাতা আরিফ খানকে বলেছিলেন, তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা, ফেরদৌসী মজুমদারের সঙ্গে কাজ করার।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় কাজ করলেও এই দুই গুণীশিল্পীর একসঙ্গে পর্দায় আসা হয়নি। সেই অপূর্ণতাই পূরণ করলেন আরিফ খান। মনের মতো একটি গল্প খুঁজে নিয়ে তিনি পরিকল্পনা করেন এমন একটি কাজের, যেখানে এই দুই শিল্পীকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে চমৎকার একটি কাহিনি।
জানা গেছে, ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ টেলিছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন জোহরা বেগম, একসময়কার খ্যাতিমান অভিনেত্রী, যিনি জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছেন নিজের মূল্যবোধ ও বাস্তবতার দ্বন্দ্বের মুখোমুখি। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌসী মজুমদার।
সারা জীবন নিজের আদর্শে অবিচল থাকা এই নারী যখন বয়সের ভারে ক্লান্ত, তখন তার সেই আদর্শই হয়ে ওঠে পরিবারে দ্বন্দ্বের কারণ। সন্তানেরা বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরলেও জোহরা বেগম ছাড়তে চান না নিজের বিশ্বাস। এই টানাপোড়েন একসময় তীব্র রূপ নেয় এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হয় গভীর সংকট।
জোহরা বেগমের বড় ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, যিনি একদিকে মায়ের প্রতি দায়বদ্ধ, অন্যদিকে বাস্তবতার চাপের মধ্যে পড়ে দ্বিধাগ্রস্ত। ছোট ছেলে ও তার স্ত্রীর ভূমিকায় আছেন তৌকীর আহমেদ ও জাকিয়া বারী মম, যারা আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতিকে দেখার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে মেয়ে ও জামাতার চরিত্রে দীপা খন্দকার ও রওনক হাসান। তাদের সম্পর্ক, অবস্থান ও সিদ্ধান্তও গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে আছেন মামুনুর রশীদ, যার উপস্থিতি গল্পের গভীরতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
দীর্ঘদিন পর টেলিভিশনে অভিনয়ে ফিরেছেন ফেরদৌসী মজুমদার, এটি এই প্রযোজনার সবচেয়ে দারুণ দিকগুলোর একটি। বয়সজনিত শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও মানসিক দৃঢ়তা পুরো ইউনিটকে অনুপ্রাণিত করেছে।
নির্মাতা জানান, প্রতিদিন নিয়ম করে শুটিংয়ে অংশ নেওয়া, চরিত্রে মনোযোগী থাকা এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা সব মিলিয়ে তিনি যেন আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি অভিনয়ের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
এই টেলিছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তৌকীর আহমেদ, যিনি দীর্ঘদিন পর আবার টেলিছবির গল্প লেখায় ফিরলেন। ঈদুল আজহার বিশেষ আয়োজন হিসেবে টেলিছবিটি প্রচারিত হবে চ্যানেল আইয়ের পর্দায়।








