আন্তর্জাতিক

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, পাসপোর্ট জমার নির্দেশ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর সঙ্গে এক ব্যক্তির হাস্যোজ্জ্বল সাক্ষাৎ. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজর স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজকে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং প্রতি দুই সপ্তাহে একবার আদালতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) তদন্তকারী বিচারক জুয়ান কার্লোস পেইনাডো এই আদেশ জারি করেন। তিনি বলেন, বেগোনা গোমেজ দেশ ছাড়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনো মামলার নির্দিষ্ট বিচার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গোমেজ তার অবস্থানের প্রভাব ব্যবহার করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দেওয়া সরকারি চুক্তিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন। পাশাপাশি একটি কনসালট্যান্ট নিয়োগে সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক থাকাকালে সফটওয়্যার ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়েছে।

তবে বেগোনা গোমেজ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিযোগগুলোকে বিরোধীদের একটি “কালো প্রচারণা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি তার বামপন্থী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা।

এই রায়ের পর স্পেনে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট সরকারের পদত্যাগ এবং আগাম নির্বাচনের দাবি তুলেছে।

অন্যদিকে বিচারক জানিয়েছেন, যেসব ব্যবসায়ী সরকারি চুক্তি থেকে সুবিধা পেয়েছেন এবং গোমেজের সঙ্গে কাজ করা কনসালট্যান্ট তারাও বিচারের মুখোমুখি হবেন।

সরকারি কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। সোশ্যালিস্ট পার্টি একে গণতন্ত্রের জন্য একেবারে বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে অভিহিত করেছে।

দলটি এক বিবৃতিতে বলেছে, বেগোনা গোমেজ নির্দোষ। গত দুই বছর ধরে তিনি রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আজকের সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই নতুন ধাপ।

অন্যদিকে ডানপন্থী বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী পিপলস পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিগুয়েল টেল্লাডো বলেছেন, সরকার বিচার বিভাগ, প্রসিকিউটর এবং গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা কোনো আধুনিক গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।

এই তদন্ত শুরু হয় মানোস লিম্পিয়াস নামের একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অভিযোগের ভিত্তিতে। সংগঠনটি অতীতে একাধিক রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলায় জড়িত ছিল।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সানচেজ আগামী বছরের মধ্যে সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে একাধিক রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিষয়:দুর্নীতির মামলা স্পেন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…