ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দেশব্যাপী শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া টানা নয় ঘণ্টার ভোটে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হয়। এরপর একই সঙ্গে দুটি ব্যালটের গণনা শুরু হয়।
এবার ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দেন। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত দেন।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। পরে বেলা ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
আজ বিকেল সোয়া চারটার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভোট গ্রহণ চলাকালে সহিংসতা ও অনিয়মের কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ। সকাল থেকেই অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
ভোট গ্রহণ চলাকালে বড় ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে ছিলেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়।
এবারের নির্বাচনে ৪৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮১ জন।
ইসি জানিয়েছে, গণনা শেষে ধাপে ধাপে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল একসঙ্গেই প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক ফলাফল রাতেই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।







