এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কিশোর-কিশোরীরা উইকএন্ড বা সপ্তাহ শেষে ছুটির দিনে বেশি সময় ঘুমালে অনেকেই তা আলস্য হিসেবে দেখেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এটি বিলাসিতা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা।
সংবাদমাধ্যম দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের নবি মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পার্থ নাগদার মতে, কিশোরদের প্রতিদিন ৮–১০ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি, যা তাদের বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের বিকাশকে সহায়তা করে।
তবে বাস্তবে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন মাত্র সাড়ে ৬ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা ঘুমায় । পড়াশোনা, কোচিং, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং সামাজিক দায়িত্বের কারণে তাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত ঘুম তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান তিনি।
কেন কিশোরদের দেরি করে ঘুমানো প্রয়োজন?
কৈশোরে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে, যার ফলে তাদের ঘুমোতে যেতে দেরি হয়। কিন্তু ভোরবেলা ক্লাসের সময়সূচি এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, ফলে সপ্তাহের দিনে তাড়াতাড়ি উঠতে তাদের সমস্যা হয়।
ঘুমের ঘাটতি পূরণ
সপ্তাহজুড়ে যে ঘুমের ঘাটতি তৈরি হয়, তাকে স্লিপ ডেট বলা হয়। সপ্তাহান্তে কিছুটা বেশি ঘুম এই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
কগনিটিভ বা মানসিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি
ঘুম পূরণ হলে স্মরণশক্তি, মনোযোগ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি আবেগ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে, ফলে মুড সুইং কমে এবং মানসিক চাপ হ্রাস পায়।
শারীরিক সুস্থতার জন্য উপকারী
পর্যাপ্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মেটাবোলিজম ঠিক রাখে এবং কিশোর বয়সে শরীরের সুস্থ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
আবেগিক স্থিতিশীলতা
যথেষ্ট বিশ্রাম পাওয়া কিশোররা পড়াশোনা ও সামাজিক চাপ সহজে সামলাতে পারে, ফলে তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ে।
ঘুমের শুদ্ধাচার বা স্লিপ হাইজিন বজায় রাখা জরুরি
সপ্তাহান্তে দেরি করে ঘুমানো উপকারী হলেও ঘুমের শুদ্ধাচার বজায় রাখাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ডা. নাগদা কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেন:
- নিয়মিত ঘুমের সময়: সপ্তাহান্তেও সম্ভব হলে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া।
- স্ক্রিন টাইম কমানো: ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল, ট্যাব বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার না করা।
- আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ: শান্ত, অন্ধকার এবং ঠাণ্ডা ঘর ঘুমের মান বাড়ায়।
- রিল্যাক্সেশন টেকনিক: বই পড়া বা হালকা সঙ্গীত শোনা ঘুমের আগে মন শান্ত করতে সাহায্য করে।
শিক্ষাগত চাপ কম থাকলে কিশোরদের সপ্তাহান্তে কিছুটা বেশি ঘুমাতে দেওয়া তাদের শারীরিক, মানসিক এবং আবেগিক সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখতে পারলে তারা স্কুল, পরিবার এবং সামাজিক জীবনের চাপ আরও দক্ষভাবে সামলাতে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের যথাযথ বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয় বরং তাদের সুস্থ বিকাশের অপরিহার্য অংশ।







