এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ২৩ তারিখ থেকে হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের নিবির পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে ছিলেন জুয়েল। এ সময়ে অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি বলে চিকিৎসকের বরাতে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন জুয়েলের মেজ ভাই মহিবুর রেজা রুবেল।
শনিবার বিকেলে তিনি জানান, সংগীতশিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলের শারীরিক অবস্থার কার্যত কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসে জমে থাকা পানি বের করা হচ্ছে তার।
তিনি জানান, শুক্রবার জুয়েলের ফুসফুস থেকে ১ লিটার জমানো পানি বের করা হয়, শনিবার বের করা হয়েছে ২ লিটার পানি। সেই সাথে কড়া ডোজের ওষুধের কারণে ইনফেকশনও অনেকটা কমতে শুরু করেছে।
প্রতিদিন বেলা ১২টার দিকে জুয়েলের শারীরিক অবস্থার আপডেট জানিয়ে ব্রিফ করেন চিকিৎসকরা। শনিবার তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের চেয়ে ইম্প্রুভ করছেন জুয়েল। তবে নিজে নিজে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারছেন না ‘এক বিকেলের’ এই শিল্পী। কৃত্রিম উপায়ে তাকে শ্বাসপ্রশ্বাস দেয়া হচ্ছে।
রুবেল বলেন, লাইফ সাপোর্ট বলতে আমরা সাধারণত যেটা বুঝি রোগী কোমায় চলে যায়, বা তার শরীরের অঙ্গগুলো অকার্যকর হয়ে যায়- জুয়েলের ক্ষেত্রে তেমনটা না হলেও তাকে যেহেতু এখনো ভেন্টিলেশনে রেখে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দেয়া হচ্ছে, সুতরাং বলা যায় জুয়েলও লাইফ সাপোর্টে আছেন। তবে তার শরীর রেসপন্স করছে। আমরা আশা করি, দ্রুতই জুয়েল নিজে নিজে শ্বাস নিতে পারবেন।
নব্বই দশকে ব্যতিক্রমী কণ্ঠ নিয়ে হাজির হন শিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। ব্যাংকার বাবার চাকরির কারণে ছোটবেলায় তাকে থাকতে হয়েছিল দেশের বিভিন্ন জায়গায়। বাবা মায়ের অনুপ্রেরণাতেই গানের জগতে পা রাখেন জুয়েল। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রতিবেশী একজনের কাছে গান শিখেছিলেন আর মঞ্চে প্রথম গান করেছিলেন তখন তিনি পড়েন চতুর্থ শ্রেণিতে।
১৯৮৬ সালে ঢাকায় চলে আসেন জুয়েল। এসেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কেন্দ্রিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন। তখনই বিভিন্ন মিডিয়ার সাথে তার যোগাযোগ ঘটতে শুরু করে।
জুয়েলের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। দশটির মতো অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে তার। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘এক বিকেলে’ অ্যালবামটি। এটি প্রকাশের পর তার নামই হয়ে যায় ‘এক বিকেলের জুয়েল’।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি কনসার্টে গাইতে গিয়ে সদ্য ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন কিংবদন্তী ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। এমন দুঃসংবাদের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নব্বই দশকের শ্রোতাপ্রিয় শিল্পী, অনুষ্ঠান নির্মাতা জুয়েল। স্বভাবতই শোকাবহ সংগীত অঙ্গন। সংগীতের বহু মানুষের কামনা, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন জুয়েল!







