সাউথ কোরিয়ার সোল শহরে নতুন কনভিনিয়েন্স স্টোর বা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ঢুকলেই খিলখিল করে হেসে ওঠেন হি কাং। বেশিরভাগ মানুষই হয়তো ভাবেনি হি কাং এর মতো ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ একাকীত্ব কমানোর এই নতুন উদ্যোগ ব্যবহার করবে। কিন্তু হি কাং প্রতিদিন এই দোকানে আসেন বিনামূল্যের ইনস্ট্যান্ট রামেন নুডলস নিতে এবং অন্য দর্শনার্থী ও সমাজকর্মীদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতে।
আজ ২০ আগস্ট বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, কিশোরী বয়সে বাড়ি ছেড়ে পালানোর পর থেকে হি কাং আর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলেন না। তার যেসব বন্ধু আছে, তাদের সঙ্গে পরিচয় অনলাইনে। মূলত কে-পপ গ্রুপ সুপার জুনিয়রের ভক্ত হওয়ায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু এই বন্ধুদের কেউ হি কাং এর সাথে থাকে না। সবাই অনেক দূরে দূরে থাকে। বর্তমানে তিনি বেকার, তাই কোন সহকর্মীও নেই যার সঙ্গে কথা বলা যায়।
তিনি একা থাকেন, আর সময় কাটান মেঝেতে শুয়ে ফোনে সুন্দর সুন্দর প্রাণীর ভিডিও দেখে। কিন্তু এই স্টোরে আসার পর থেকে তিনি পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছেন। হি কাং বলেন, আমি নিজেকে বলি, আরেকটা দিন, একাকীত্ব থেকে মুক্তির আরেকটা সুযোগ। এই স্টোর না থাকলে আমার যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা থাকত না।
সোলে এই দোকানটি চালু হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে। খোলার পর থেকে চারটি স্টোরে আসা ২০ হাজার মানুষের একজন হি-কাং। অথচ শুরুতে আশা করা হয়েছিল প্রথম বছর এই দোকানে হয়তো মাত্র পাঁচ হাজার মানুষ আসবে। শহরের উত্তর-পূর্ব দোংদেমুন জেলায় অবস্থিত এই স্টোরে প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন দর্শনার্থী আসে। বেশিরভাগের বয়স ৪০ বা ৫০ বছর বয়সের মধ্যে। তবে হি কাং এর মতো অনেক তরুণরাও এই সেবা নিচ্ছে।

২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার তরুণ, যাদের বয়স ১৯ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। তারা হয় সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, নয়তো বাড়িতে বন্দি। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, সোলে একক ব্যক্তির পরিবারের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ নিয়ে সাউথ কোরিয়ার সরকার বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ তারা দেশটির জন্মহার ও বিয়ের হার কমে যাওয়া ঠেকাতে অনেক চেষ্টা চালাচ্ছে।
এখানকার একাকীত্ব প্রতিরোধ বিভাগের ম্যানেজার কিম সে হিয়ন ফিসফিস করে বলেন, আমরা মুভি ডে রাখি, যাতে মানুষদের মধ্যে সামান্য হলেও বন্ধুত্ব তৈরি হয়। রামেন সাউথ কোরিয়ায় আরাম ও উষ্ণতার প্রতীক। নুডলস সেদ্ধ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময়, দর্শনার্থীদের তাদের মেজাজ ও জীবনযাপনের অবস্থা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ পূরণ করতে বলা হয়।
স্টোরগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন কফি শপের মতো উষ্ণ পরিবেশের আবহ থাকেএক কোণায় এক বৃদ্ধা চোখ বন্ধ করে বসে আছেন গুনগুন করা স্বয়ংক্রিয় ম্যাসাজ চেয়ারে। অন্য কোণায় রয়েছে নুডলসের স্তূপ। এরা কেবল শহরের ক্রমবর্ধমান একাকী মানুষের সামান্য অংশ, যাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।







