এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। একই সময়ে দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি কমে যাওয়ার দাবি উঠেছে। এ কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজটি সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতা নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যানের দাবি, প্রায় ২০০ দিন বন্দরে না ভিড়ে সমুদ্রে অবস্থান করায় জাহাজটির প্রস্তুতি ও কার্যক্ষমতা কমেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পিট হেগসেথ জানান, পর্যায়ক্রমে যুদ্ধজাহাজ পরিবর্তন করে হলেও ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এদিকে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) শেষ হওয়ার কথা। তবে নতুন করে আলোচনার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার এই পথে মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনে দৈনিক গড়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১২টি। এতে প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নিয়ন্ত্রণের দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশটি আর্থিক চাপের মুখে পড়লেও হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা চাপ তৈরির চেষ্টা করছে ইরান।








