কৃষি ও কৃষকের কথা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে হাজির হয়েছিলেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান ও কৃষি উন্নয়নে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। তিনি কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য ও কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণে সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সম্প্রতি জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে কৃষি ও কৃষক ইস্যুতে কথা বলেন শাইখ সিরাজ।
তিনি বলেন: পুনঃনির্বাচিত হবার জন্য আপনাকে অভিন্দন। আপনার সাংসদ এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের অভিনন্দন। ঘুরে ফিরে কৃষির কথায় আসি বারবার। খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুটা আমাদের দেশের জন্য অনেক বড় বিষয়। আমি মাঠে কাজ করি। আমি দেখি কিন্তু অর্থনীতির সঙ্গে আমার অঙ্ক মেলে না। আমি তো দেখি আমাদের এতো ফল-ফসল উৎপাদন হয়। আমাদের কোন ফসলের ঘাটতি নেই। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে রকমারি ফসলের যে বৈচিত্র্য এসেছে, এটা অভাবনীয়। তাহলে সমস্যাটা কোন জায়গায়। আমার কাছে বারবারই মনে হয়, আমরা পিছিয়ে আছি বিশেষ দু’টি বিষয়ে। আমরা প্রিজার্ভ করতে পারি না। আমাদের প্রিজার্ভেশনের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে, আরেকটি হচ্ছে ডিসট্রিবিউশন। ডিসট্রিবিউশনে অনেক ঝামেলা আছে আমাদের। এই দু’টি বিষয়ের দিকে আমাদের দৃষ্টি দেওয়া খুবই দরকার। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- কৃষি বিভাগের একটি টপ ক্যালেন্ডার আছে। কখন কোন ফসল উৎপাদন হয়, সে বিষয়টা মাথায় রেখে; কৃষকরা যেনো দাম পায় এই বিবেচনায় ঐসময় ঐ ফসল অন্য দেশ থেকে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হয়। আমার কাছে মনে হয় আমরা এটা ঠিক অনুসরণ করি না। আমার কৃষকের ফসল যখন বাজারে আসে, তখন বাইরে থেকে এলসি করে ফসলগুলো আনি। এতে করে কৃষক মার খায়। মূল্য পায় না। এ বিষয়টা আগামীতে আপনি অবশ্যই দেখবেন।

তিনি আরও বলেন: ২০২০ সালে আপনি ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটা ভর্তুকি দিয়েছিলেন যান্ত্রিকীকরণের জন্য। কম্বাইন্ড হারভেস্টরের জন্য। এক একটা মেশিন প্রায় ৩২ লাখ টাকা করে দাম। এটিতে সুফল এসেছে। কৃষকরা কিনতে পারেনি। কিন্তু যারা অবস্থাশালী মানুষ তারা কিনেছে। কৃষকরা হার্ভেস্টিংয়ের জন্য সে সুযোগটা পেয়েছে। এতে করে হার্ভেস্টের শ্রমিক মজুরি প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। আমার দেখার দৃষ্টি থেকে আপনার কাছে অনুরোধ করবো- ছোট ছোট ইদানিং অসংখ্য চাইনিজ মেশিন আসছে, যেটা সব কৃষকেরই ক্রয়ের আওতার মধ্যে। এক-দেড়-দু’ লাখ টাকার মধ্যে। এরমধ্যে ছোট ছোট ছোট হারভেস্টর, রিপার, চারা লাগানো মেশিন আছে। আপনি যদি ভর্তুকিতে এই সকল মেশিন উদ্বুদ্ধ করেন, আমি বিশ্বাস করি অ্যাটএ টাইম যান্ত্রিকীকরণটা হবে। কৃষকদের অন্যের ওপর ধর্ণা দিতে হবে না।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন: আমরা হাওড় অঞ্চলে ৭০ শতাংশ এবং অন্য অঞ্চলে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছি। এছাড়া কোয়াপারেটিভের কাছে মেশিন থাকবে। কৃষক তেল পানি খরচ দেবে, ব্যবহার করবে। তাহলে কোন ব্যক্তির ওপর কৃষকদের নির্ভরশীল থাকতে হবে না। সে উদ্যোগটাও আমরা নিচ্ছি কিন্তু। আমার এলাকায় মডেল ধরে কাছ শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের আওতায় আমরা একটি হারভেস্টর এবং একটি এক্সিলেটর কিনে দিয়েছি। এবং বলে দিয়েছি কোয়াপারেটিভের মাধ্যমে চাষ করতে। আমরা নিজেরাও কিছু কিছু ছোট মেশিন তৈরি করেছি। আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরাও এটা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন: আমাদের দেশে এখন সব ফসল সব সময় ফলে। এখন আর সেই দিন নেই যে কবে শীত আসবে আর একটু লাউ খাবো। শিম-গাজর কপি এগুলো সব সময় হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন ২০২৪-এ যোগ দিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের সফরে জার্মানি যান এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেন।







