পাকিস্তানের বরাবরই শক্তির জায়গা পেস বোলিং। অনেক কিংবদন্তি পেসার উঠে এসেছে দেশটি থেকে। গত কয়েকবছরে পেস আক্রমণে ধারাবাহিক বাংলাদেশও। সবশেষ কয়েকটি সিরিজে পেস বোলিংয়ে ভরসা করে জিতেছে টিম টাইগার্স। সে কারণে পাকিস্তান সিরিজে নিজেদের পেসারদেরই এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পেসারদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানান।
‘পেস বোলিং বিভাগ দুদলেরই ভালো। তবে যদি জিজ্ঞেস করেন বলব, আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ হয়তো সামান্য একটু এগিয়ে থাকবে। গত কয়েকবছর যদি দেখি, ওরা যেভাবে বোলিং করছে (বাংলাদেশের পেসাররা)। কিন্তু পাকিস্তান নিয়ে যখন কথা বলি, সবসময় ওদের পেস বোলিংয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই তারা খুবই ভালো দল ও খুব ভালো পেস বোলিং তাদের। কিন্তু শেষ কয়েকবছর আমাদের পেস বোলাররা যেভাবে বল করেছে, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
পেসাররা ভালো ছন্দে থাকায় তাদের থেকে বাড়তি প্রত্যাশা রাখছেন শান্ত। তবে ব্যাটারদেরও দায়িত্বটা পালন করতে হবে, মনে করিয়ে দিলেন। দুদিকেই ভালো করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ঘরের মাঠে বেশিরভাগ ম্যাচ জিততে চান টাইগার অধিনায়ক।
‘পেস বোলাররা অবশ্যই আমাকে অতিরিক্ত সাহায্য করবে, কারণ ওরা অনেক উন্নতি করেছে। সাদা বলের ক্রিকেটে তারা যেকোনো কন্ডিশনে ভালো বল করছে। সবাই ভালো অবস্থায় আছে। অধিনায়ক হিসেবে চাইব সবশেষ দুবছরের যে চক্র আছে, ঘরের মাঠে বেশিরভাগ ম্যাচে যেন জিতি। ব্যাটার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে দলের কাছে চাই যাতে প্রথম ইনিংসটা আমরা ভালো খেলি। এই চ্যালেঞ্জটা যদি ঠিকভাবে নিতে পারি, মনে হয় এই চক্রটা আরও ভালো হবে।’
সবশেষ নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। পেস বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে নজর কেড়েছেন পিএসএলেও। পেশোয়ার জালমিকে করেছেন চ্যাম্পিয়ন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট সিরিজেও আগুন ঝরিয়েছিলেন তিনি। এই ম্যাচের আগেও আলোচনায় বাংলাদেশের গতিতারকা। নাহিদকে নিয়েও বেশ আশাবাদী শান্ত।
‘রানাকে একদম ছোটবেলা থেকে চিনি, মানে একদমই ছোট হয়তো কেউ তখন জানতোও না ওকে। জানি আসলে ও কী চিন্তা করে বা কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে, কী চায়। এই জিনিসটা আমার জন্য একটা বাড়তি পাওয়া। ওকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আসলে আমার কোন সন্দেহ নাই। সবশেষ টেস্ট ম্যাচের সবগুলোতে ছিল। ভালোভাবে কাজটা করার চেষ্টা করেছে। টেস্টে একজন অধিনায়কের অধীনে যখন এধরনের একজন গতির পেস বোলার থাকে, অবশ্যই বাড়তি সুবিধা। আশা করব এই সিরিজেও সেরাটা দেবে এবং খুবই আশাবাদী যে ফর্মে আছে, সেটা চালিয়ে যাবে।’
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার কথা না ভেবে ভালো ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ দিতে চান শান্ত। বললেন, ‘হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ওরকম ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা কখনোই করি না। ১০ দিনের খেলা পাঁচদিন, পাঁচদিন করে এই ১০টা দিন কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, ওদের থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে পারি, এটাতে বেশি চিন্তা করি।’








