সাকিব আল হাসান ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটা খেলতে চেয়েছেন দেশের মাটিতে, অক্টোবরে গড়াতে চলা সাউথ আফ্রিকা সিরিজে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় টাইগার অলরাউন্ডারের ইচ্ছে পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে অবশ্য ভিন্ন আশাই করছেন, তার আশা প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলবেন সাকিব।
কানপুর টেস্টের প্রায় আড়াইদিন বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ভরাডুবিতে ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে টিম টাইগার্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন আশাব্যক্ত করেছেন টাইগারদের লঙ্কান কোচ। এমনকি সাকিবের অবসরের সিদ্ধান্তে অবাকই হয়েছেন তিনি।
কানপুর টেস্টই লাল বলের ক্রিকেটে সাকিবের শেষ কিনা এমন প্রশ্নে হাথুরু বলেছেন, ‘এটাই সাকিবের শেষ টেস্ট ম্যাচ সে ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। যতটুকু জানি, সে সাউথ আফ্রিকা সিরিজ খেলছে।’
সাকিবের বিকল্প তৈরি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘সাউথ আফ্রিকা সিরিজ তার শেষ বলায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। সাকিবের মতো একজনের সরাসরি বিকল্প পাবেন না। তবে সে ক্যারিয়ারের যে পর্যায়ে ছিল, তার বিকল্প ভাবনা সবসময়ই আমাদের মাথায় ছিল।’
কানপুর টেস্টের আগে টি-টুয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সাকিব। নিরাপত্তার নিশ্চয়তার শর্ত দিয়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মিরপুরে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি খেলতে চেয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সেই ইচ্ছে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা ঝুলে গেছে।
গত জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে পতিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি হত্যা মামলায় সাকিবকে আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ খেলাকালীন নিরাপত্তা এবং ম্যাচ শেষে দেশের বাইরে ফেরার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ তখন বিষয়টি নিজেদের এখতিয়ারে নেই বলেছেন। সরকার বিষয়টি দেখবে বলে জানিয়েছেন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য শর্ত জুড়ে দেন। সাকিবকে রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।







