ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বিদেশে চাকরি ও অভিবাসনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে মো. শাহজাহান খান ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের একজন নরসিংদীর বাসিন্দা সাদ্দাম, যিনি এই প্রতারণায় সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
অভিযুক্ত দুই ভাই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। তবে তারা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী সাদ্দামের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে একটি ইয়াস মসজিদে শাহজাহান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দাড়ি-টুপি ও ধর্মীয় আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের পর শাহজাহান খান রোমানিয়ায় ১৮ জনকে পাঠানোর আশ্বাস দেন এবং শক্তিশালী বিদেশি নেটওয়ার্ক থাকার দাবি করেন। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে সাদ্দাম বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা শাহজাহান খানের হাতে দেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও একজনেরও ভিসা বা বৈধ কর্মসংস্থানের কাগজপত্র সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাদ্দামের দাবি, ভিসার অগ্রগতি জানতে চাইলে বা টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় শাহজাহান খান নাকি রোমানিয়ার মাফিয়া ও বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কূটনীতিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবি করে তাকে চুপ থাকতে চাপ দেন। একপর্যায়ে সাদ্দাম দেশে ফিরে শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসেও জমা দেওয়া হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সাদ্দামের।
এদিকে, গত ১৬ ডিসেম্বর শাহজাহান খানকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হলে বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। এতে ভুক্তভোগীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান খানের ভাই জাহাঙ্গীর আলম কিছুদিন নরসিংদী জেলা কারাগারে আটক থাকলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে এখনো সাদ্দাম তার দেওয়া ৩২ লাখ টাকা ফেরত পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহজাহান খান মুঠোফোনে রোমানিয়া থেকে বলেন, আমি কারো টাকা আত্মসাৎ করিনি। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ জনের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও কাগজপত্র প্রস্তুত করে ভারতের রোমানিয়া দূতাবাসে ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু সময়সূচি অনুযায়ী ১৮ জনের মধ্যে মাত্র পাঁচজন ইন্টারভিউ দিতে গেছেন। বাকিরা ইন্টারভিউ দিতে না গেলে আমার কি দোষ?
তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে অবৈধ কাগজপত্র ও ভুয়া পারমিটের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আমি আদালতে সব বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েছি এবং অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছি। চ্যালেঞ্জ করলাম, তারা যদি প্রমাণ করতে পারে আমি অবৈধ কাগজপত্র ও ভুয়া পারমিটের ব্যবস্থা করেছি, তাহলে তাদের বিনা পয়সায় রোমনিয়া আনার ব্যবস্থা করে দিব।








