১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ‘শহীদ আবু সাঈদ’।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) এ ফল প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যেই গত ১২ ও ১৩ জুলাই শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন সাঈদ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইবতেদায়ী শিক্ষক হিসেবে ইংরেজি এবং বাংলা দুই বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
ফলাফল প্রকাশের পর ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আবু সাঈদের সহপাঠীরাসহ অনেকে। তাদের একজন আবু সাঈদের সহপাঠী শামসুর রহমান সুমন।
সুমন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘১১ জুলাই ক্যাম্পাসে মিছিল করার পর ১২ জুলাই ছিল আবু সাঈদের শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা। আমরা ওইদিন সকালে সভা করব। এসময় আবু সাঈদ বলছিলেন, পরীক্ষা দেব কি না, কিছুই পড়িনি আন্দোলনের কারণে। আমরা বললাম, ভাই পরীক্ষা দিয়ে আসেন, আমরা বিকেলে সভা করব। ১১ জুলাই মিছিলের পর ছাত্রলীগের চড়-থাপ্পড় খাওয়ার স্ট্রেস নিয়ে নিহতের তিন দিন আগে ১২ জুলাই পরীক্ষা দিতে যায় আবু সাঈদ। সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পাস করেছে আবু সাঈদ কিন্তু আজ সে আমাদের মাঝে নেই। আমরা শুধু বীর আবু সাঈদকে হারাইনি, হারিয়েছি একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তিনি বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কও ছিলেন।
১৮ আগস্ট আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই রমজান আলী মহানগর তাজহাট আমলি আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়।







