মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের। দেশের মাটিতে খেলে অবসর নিতে চাইলেও তার সুযোগ হয়ে উঠেনি। মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেয়ার কারণেই বিপাকে দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, রাজনীতিতে যোগ দেয়া ভুল কিছু নয়। দেশ সেরা ক্রিকেটারের এই মন্তব্যের সাথে একমত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে কিন্তুও রেখেছেন তিনি। বলেছেন, রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়া ভুল নয়,তবে প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কোন ধরনের দলে যোগ দিচ্ছেন যোগ দেবার আগে সেটি আপনার বিবেচনায় আনতে হবে।
শুক্রবার মাগুরা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনে যান শফিকুল আলম। সেখানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বলেছেন, ‘জেনে বুঝে সাকিব এমন দলে যোগ দিয়েছেন যে দলের নেতাদের হাতে রক্ত, যারা গুম, খুন, ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত। সবচেয়ে বড় কথা জুলাই-আগস্ট গণভ্যুত্থানে এত মানুষকে নির্মমভাবে খুন করা হলো সে ব্যাপারে সাকিব এখনো দুঃখ প্রকাশ করেননি কিংবা নিন্দা জানাননি। আমার কথা হচ্ছে যে কেউ যে কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতেই পারে। কিন্তু সাকিব এমন দলে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেছেন যে দল গুম খুনসহ সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে আনেক আগে থেকেই জড়িত।’
‘সাকিব আল হাসান আমাদের বাংলাদেশের বড় আইকন ছিলেন। সবাই তার খেলা পছন্দ করত। তাকে দেখে অসংখ্য ছেলে উদ্বুদ্ধ হতো নিজে ক্রিকেটার হতে। সাকিব আল হাসানের খেলা দেখে কেউ কেউ হয়তো তার ছেলের নাম রেখেছে সাকিব। আবার আমাদের বাংলাদেশের প্রচুর ছেলেদের নাম তামিম। যা তার খেলা দেখেই নাম রেখেছে তাদের বাবা মা। এটি এজন্যেই হয়েছে যে হয়েছে তারা পুরো বাংলাদেশকে ক্রিকেট খেলা দিয়ে একটা সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন।’
‘আবার সেই সাকিবই যখন আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন, তাদের হয়ে মাগুরা-১ আসনে নির্বাচন করলেন। ততক্ষণে আমরা কিন্তু জানি যে আওয়ামী লীগ একটা বাজে দল। যাদের প্রত্যেক লিডারশিপের হাতে রক্ত। তারা গুমে জড়িত, খুনে জড়িত, ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত। সাকিব এটি জানতো না, সেটি হতে পারে না। সাকিব বলেছেন রাজনৈতিক পার্টিতে যোগ দেয়া ভুল নয়। আমার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের কোন মানুষেরই পলিটিক্যাল পার্টিতে যোগ দেয়া ভুল নয়। বরং এটা আনন্দের বিষয়। প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কোন পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। আপনি কি জেনে বুঝে একটা জঙ্গি পার্টিতে জয়েন করবেন? আপনি জেনে বুঝে এমন একটা পার্টিতে জয়েন করতেছেন যে পার্টিটার হাতে রক্ত। সে পার্টিটা গুমে জড়িত।’
‘এই যে মাগুরায় ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত একটা নির্বাচন কি সঠিকভাবে হয়েছে? ইউপি নির্বাচন দেখেন নাই? পৌরসভার নির্বাচন দেখেন নাই? সেগুলো কীভাবে হয়েছে। কয়টা ফেয়ার ইলেকশন হয়েছে। সাকিব মাগুরার ছেলে। সাকিব কি এগুলো জানতো না। তারপর ২০২৪ এর জুলাই আগস্টে যে আন্দোলন হয়েছে সেটা মাগুরাতেও হয়েছে। এখানে নির্মমভাবে অনেকগুলো ছেলে মারা গেছে। সাকিব কি বলেছে আমি দুঃখিত? তিনি কিন্তু বলতে পারতেন না, যে আমি এটার নিন্দা জানাই। এটাও তিনি করেন নাই। আপনারা জানেন আমি ওই সময় তার নির্বাচনের সংবাদ কাভার করতে মাগুরায় এসেছিলাম। এসে দেখি একটা সাজানো নির্বাচন। বুঝাই যাচ্ছে কে জিতবে। এটাতো সাকিব নিজেও জানতো।’
প্রেস সচিবের সঙ্গে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফিসহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এ সময় তিনি মাগুরা মেডিকেল কলেজ স্থানান্তরিত কিংবা অন্য কোন মেডিকেল কলেজের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে না বলে জানান।








