প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভারি বর্ষণে কক্সবাজার ও পাবর্ত্য অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমালের অগ্রভাগ গতকাল রোববার দুপুর থেকে উপকূল স্পর্শ করতে শুরু করে। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে বাগেরহাটের মোংলার কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়া উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র আঘাত হানতে শুরু করে।
এ সময় গ্রামের পর গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। জোয়ারের অথৈ পানিতে ডুবেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। আগাম প্রস্তুতির কারণে প্রাণহানি কম হলেও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে গবাদি পশু, মাছের ঘের ও ফসলি ক্ষেত। বাড়িঘর ও জনপদ ভাসছে নোনাপানিতে। ঝড়ের সময় উপড়ে গেছে গাছপালা। বিচ্ছিন্ন হয়েছে লাখো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তৃতির কারণে সোমবার উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোনো কোনো জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি জোয়ার আর জলোচ্ছ্বাসও উপকূলীয় জেলাগুলোর বাসিন্দাদের বিপাকে ফেলে। বিশেষ করে ভোলা, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরিশালের নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বরিশাল বিমানবন্দরের সব ফ্লাইটি বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয়েছে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেল।
রেমালের প্রভাবে সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ-ছয় ফুট বাড়তি ছিল। এতে কক্সবাজার সদরের কুতুবদিয়া পাড়া, সমিতি পাড়া, গোমাতলী, পোকখালী, ইসলামপুর, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ জেলার নিম্নাঞ্চলের ২০টি গ্রামে সাগরের জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। সাগরের পানি ঢুকে পড়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপেও।







