জম্মু ও কাশ্মীরের গন্দেরবাল জেলায় একটি নির্মাণ সাইটে হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন চিকিৎসক ও ছয়জন নির্মাণ শ্রমিক। মৃতদের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের পাশাপাশি বাইরের রাজ্যের মানুষও আছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রোববার (২০ অক্টোবর) রাতে কাশ্মিরের গন্দেরবাল জেলায় এই হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুরো এলাকা সেনা ও পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আক্রমণকারীদের খোঁজ চলছে। একটি টানেল তৈরির জন্য শ্রমিকরা সেখানে ছিলেন। তার ক্যাম্পসাইটে শ্রমিকরা থাকতেন।
এই টানেলটি একটি বেসরকারি সংস্থা তৈরি করছিল। মৃতদের মধ্যে আছেন কাশ্মীরের চিকিৎসক ডাঃ শাহনওয়াজ, পাঞ্জাবের গুরদাসপুরের মোহাম্মদ হানিফ ও ফাহিম নাসির, মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা সেফটি ম্যানেজার অনিল কুমার শুক্ল, জম্মুর ডিজাইনার শশী আবরোল এবং বিহারের দুইজন শ্রমিক।
আক্রমণকারীরা একটি ইনসাস রাইফেল ফেলে রেখে যায়। তারা বেসরকারি সংস্থার দুইটি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের যেতে দেয়নি। তাদের ৫০ কিলোমিটার দূরে মনিগামে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আক্রমণকারীদের ধরার জন্য অপারেশন চলছে। তাই সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলের আগে থামিয়ে দেয়া হয়েছে।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর ওমর আবদুল্লা বলেছেন, ‘এটা একটা কাপুরুষের মতো আক্রমণ। মৃতরা একটি পরিকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য কাজ করছিলেন। আমি এইভাবে নিরস্ত্র নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার তীব্র নিন্দা করছি।’
জম্মু ও কাশ্মীরের এলজি মনোজ সিনহা বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদীদের ধরার জন্য পুলিশ, সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে। এরকম একটা ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেছেন, ‘নিরপরাধ মানুষের উপর এই আক্রমণ মেনে নেয়া যায় না।’
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-এর চার সদস্যের দল ঘটনাস্থলে গেছে। এই ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ ও সেনাকে সাহায্য করবে এনআইএ।
এমনিতে গন্দেরবাল শান্তিপূর্ণ এলাকা বলে পরিচিত। গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এখানে এই ধরনের ঘটনা প্রথমবার ঘটলো।










