কানাডার কুইবেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের জয়
নতুন করে পরীক্ষায় কানাডার ঐক্য

ছবি: সংগৃহীত
কানাডার কুইবেক প্রদেশের নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল পার্তি কেবেকোয়া (পিকিউ)। প্রায় এক দশক পর আবারও প্রাদেশিক ক্ষমতায় ফিরছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে কানাডার জাতীয় ঐক্য নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার ৫ অক্টোবরের নির্বাচনে পিকিউ নেতা পল সাঁ-পিয়ের প্লামন্ডন কুইবেকের নতুন প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছেন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৪টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি দলটি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তাদের অন্য দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
জয়ের পর দেওয়া ভাষণে কুইবেকের স্বাধীনতার পরিকল্পনা আবারও তুলে ধরেন প্লামন্ডন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি হবেন ‘কুইবেকের সবার প্রিমিয়ার’।
কুইবেককে কানাডা থেকে আলাদা করতে নতুন করে গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পিকিউ। ফরাসিভাষী এই প্রদেশে এর আগে ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট হয়েছিল। দুইবারই স্বাধীনতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়।
বর্তমান জনমত জরিপেও স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন কম। জরিপ অনুযায়ী, কুইবেকের মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রয়েছেন।
প্লামন্ডন এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গণভোট আয়োজন করা হতে পারে। তার মতে, স্বাধীনতা নিয়ে সচেতন ও শান্তিপূর্ণ বিতর্কের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি প্রয়োজন। তবে সম্ভাব্য গণভোটের জন্য তিনি কীভাবে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ কুইবেকের অন্য প্রধান দলগুলো স্বাধীনতার বিরোধী।
নির্বাচনের ফল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্যও নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অভিবাসন, প্রাদেশিক ক্ষমতা এবং রাজতন্ত্রের মতো বিভিন্ন বিষয়ে অটোয়ার সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারেন প্লামন্ডন।
এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের ভরাডুবি হয়েছে ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন আভেনির কুইবেক বা সিএকিউর। দলটি আগে প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করলেও এবার কোনো আসন জিততে পারেনি বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। অন্যদিকে কুইবেক লিবারেল পার্টি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টিও আসন বাড়িয়েছে।
পিকিউর জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, শক্তিশালী কুইবেক গড়ে তোলাই শক্তিশালী কানাডা গড়ার লক্ষ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কুইবেকের পাশাপাশি কানাডার আরেক প্রদেশ আলবার্টাতেও বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে গণভোটের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে কার্নিকে একই সময়ে দুটি প্রদেশের রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হতে পারে।
স্বাধীনতার পাশাপাশি কুইবেকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের বিরোধিতাও করছেন প্লামন্ডন। প্রচারণার সময় তিনি কুইবেকে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে ব্যয় করা অর্থ সামাজিক সেবায় ব্যবহারের কথাও বলেছেন তিনি।
কুইবেকে রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধিত্বকারী লেফটেন্যান্ট-গভর্নরের কার্যালয়ের অর্থায়ন বন্ধ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন পিকিউ নেতা। সেই অর্থ গৃহহীনতা মোকাবিলায় ব্যয়ের কথা বলেছেন তিনি। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ কানাডার সংবিধানে রাজতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে আইনি লড়াইয়েও যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্লামন্ডন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আট বছর ক্ষমতায় থাকা সিএকিউ সরকারের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দলটি কুইবেকের ভাষা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়কে গুরুত্ব দিলেও শেষ দিকে তাদের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
পিকিউর প্রত্যাবর্তনে কুইবেকের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতার দাবিকে কেন্দ্র করে কানাডার জাতীয় ঐক্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।



