ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ইউএপিএ (অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশে একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ মামলা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিবিসি নিউজ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিলিগুড়ির আইনজীবী রিঙ্কি সিং বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় মমতা ব্যানার্জী দেশের সার্বভৌমত্ব, সংহতি ও নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু তার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।
গত ২ মে এক বক্তব্যে মমতা ব্যানার্জী নাম উল্লেখ না করে বলেন, বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, আমি জানি। এ মন্তব্যের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
একই বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা একজন ‘বড় খুনিকে’ এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও তিনি সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহে তিনি বাংলাদেশের আলোচিত ব্যক্তি ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে থাকতে পারেন বলে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল মনে করছে।
মমতা ব্যানার্জী আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কারণ এটি দেশের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রিঙ্কি সিং বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এমনকি ওসমান হাদির পরিবার বা বাংলাদেশের সরকারও ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেনি। ফলে মমতার মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তিকে সক্রিয় করতে পারে এবং সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
রিঙ্কি সিং জানান, সোমবার আদালত খুললে তিনি মমতা ব্যানার্জীর গ্রেপ্তারের আবেদন করবেন। এরই মধ্যে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউএপিএ বা অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন ভারতের একটি কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন। এই আইনের অধীনে দায়ের হওয়া মামলায় জামিন পাওয়া তুলনামূলক কঠিন এবং অভিযোগের তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তকে দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখা যেতে পারে।








