ভেনেজুয়েলার উপকূলে দ্বিতীয়বারের মতো একটি তেল ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে জারি করা তথাকথিত “সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ”-এর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার একে “চুরি ও আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা” আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নয়েম শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ট্যাংকার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পেন্টাগনের সহায়তায় মার্কিন কোস্টগার্ড জাহাজটি আটক করেছে। নয়েম দাবি করেন, এই অঞ্চলে মাদক সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ তেলের অবৈধ চলাচল যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করবে।
গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি এলাকায় আটকানো দ্বিতীয় তেল ট্যাংকার। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও দেশটি থেকে বের হওয়া সব অনুমোদিত তেল ট্যাংকারের ওপর “সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ” আরোপের নির্দেশ দেন।
এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে একটি বেসরকারি তেল পরিবহনকারী জাহাজ আটক এবং এর ক্রুদের জোরপূর্বক অন্তর্ধান আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার গুরুতর উদাহরণ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই কাজগুলো শাস্তিহীন থাকবে না। ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থা ও সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবে বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, আটক জাহাজটি পানামা-পতাকাবাহী ‘সেঞ্চুরি’, যা ক্যারিবিয়ান সাগরে বার্বাডোসের পূর্বে আটক করা হয়। রয়টার্সকে ওয়াশিংটনভিত্তিক আইন সংস্থা হিউজ হাবার্ডের অংশীদার জেরেমি প্যানার জানান, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল না। তার মতে, এ আটক ভেনেজুয়েলার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ‘সেঞ্চুরি’ জাহাজটি প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার মেরে অশোধিত তেল চীনের উদ্দেশ্যে বহন করছিল। জাহাজটি ভেনেজুয়েলায় ভুয়া নামে তেল লোড করে এবং তথাকথিত “ছায়া বহর”-এর অংশ হিসেবে অবস্থান গোপন করে তেল পরিবহন করছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।







