বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সারাদেশের প্রায় ২২ হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট নির্বাচন-২০১৭’। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে গঠন করেছে তাদের কাঙ্ক্ষিত মন্ত্রিসভা, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন ‘প্রধানমন্ত্রী’। শিক্ষার্থীদের এই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের ফলে ওইসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ধাপ ভোট ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পেরেছে। শিক্ষকদের সহযোগিতায় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবী হয়ে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছে। গণতান্ত্রিক অবস্থার সঙ্গে পরিচিত ও গণতন্ত্রের প্রতিটি ধাপের চর্চার জন্য এই প্রতীকি নির্বাচন। এই নির্বাচন শিশুদের মনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরিসহ শিশুরা অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখবে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। বিষয়টি অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার মতো। কিন্তু এই শিশুরা যখন স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে, তখন তারা আর এই ধারা হারিয়ে ফেলছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকছে না ছাত্রসংসদ নির্বাচনের সুযোগ। কোন এক অলিখিত ও অজানা কারণে দেশে প্রায় দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে কলেজ সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। কেন হয়নি, তার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা কারণ নেই। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতিসহ অনেকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। তবে গত আড়াই দশকে দেশের ছাত্র রাজনীতির চরিত্র ও গুণগতমানে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়েছে। মূলধারার রাজনীতির নেতিবাচক অংশের চালিকা শক্তি হিসেবে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নাম চলে আসছে বিভিন্ন ঘটনা আর কর্মকাণ্ডে। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সুষ্ঠুধারার রাজনৈতিক চর্চা না থাকায় ভবিষ্যত প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না, যা খুবই শঙ্কার বিষয়। জাতীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের পরিবেশ ও আনুষ্ঠানিকতায়ও ঘটেছে নেতিবাচক পরিবর্তন। এই অবস্থায় স্কুল-মাদ্রাসায় ‘স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট’ নির্বাচন কতটুকু গণতান্ত্রিক শিক্ষা দিতে পারবে, তা ভেবে দেখা যেতে পারে। তবে ‘স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট’ নির্বাচনের এই চর্চা দেশের সর্বস্তরের কলেজসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে কাঙ্খিত পরিবর্তন আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ‘স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট’ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত গণতন্ত্রে যে বীজ অঙ্কুরিত হলো, তার ফসল তুলতে হলে দেশের সর্বত্র-সর্বস্তরে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও চর্চা তৈরি করা জরুরি।









