চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Oikko

বীরকন্যারা দেশ ও জাতির গৌরব

Oikko SME

এরা সাহসী-উদ্যমী, এরা বীর যোদ্ধা। এরা জন্মেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক বুক প্রতিভা নিয়ে। এরা প্রকৃতির আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা, প্রকৃতির ছোঁয়ায় বিকশিত হওয়া সন্তান। প্রতিটি ভোর এদের হাতছানি দিয়ে ডেকেছে ‘‘আয় রে তোরা আয়, বল নাই তো কি হয়েছে, একটা জাম্বুরা দিয়েই কর শুরুটা কর।’’ এভাবেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন, এদেশের নারী ফুটবলার সাবিনা, সানজিদা, রূপনা, মণিকা, মারিয়া, কৃষ্ণা, শামসুন্নাহার, সাজেদা, দিপা, আঁখি, মাসুরা।

Reneta June

১৯ সেপ্টেম্বর, বৃষ্টিতে ভারী হয়ে যাওয়া নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালকে ৩ -১ গোলে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করেন বাংলাদেশের এই বলিষ্ঠ কন্যারা। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করে তারা আবেগ আপ্লুত হয়ে কেউ আনন্দঅশ্রু ঝরিয়েছে, কেউ গানে গানে- ‘লাল সবুজের বিজয় নিশান হাতে হাতে উড়িয়ে দাও…।’

নেচে নেচে নানান উল্লাসে উচ্ছ্বসিত। এই উচ্ছ্বাস, এই জয় তাদের একার নয়, দেশের দল-মত, নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য তারা বয়ে এনেছে। একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশের নারীদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার মাইল ফলক এই বীর কন্যারা।

১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম ফুটবল খেলা শুরু হওয়ার পর বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে এদেশের মানুষও এই খেলায় মেতে ওঠে। বাঙালি হয়ে ওঠে ফুটবলপ্রেমী। মোহামেডান-আবাহনী আমরা পাটিগণিতের মধ্যে পেয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই আমরা বুঝতে শিখেছি বল খেলা সে তো ছেলেদের খেলা আর পুতুল খেলা মেয়েদের।

আমরা যখন পাঠ্যবইয়ে পড়তাম কবি সুফিয়া কামাল তা লিখেছেন আরও অনেক বছর আগে–
“আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা
তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।
আকাশের তলে আমরা যখন উড়িয়েছি শুধু ঘুড়ি
তোমরা সেখানে কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।
উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা
আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জীন-পরী-দেও-দানা।”

এখন আর আমাদের সময়ের সেই সব কবিতা পাঠ্য বইয়ে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামালের মতো সাহসীকারা অন্ধকার থেকে নারীদের আলোর পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। তাইতো আজ সাবিনারা বিশ্বের সাফ প্রতিযোগিতায় শিরোপা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলেই কেবল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায় না। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে লক্ষে পৌঁছাতে হয়। তেমনিভাবে সানজিদা, রূপনাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে ছিল অনেক প্রতিকূলতা, নানান রকমের প্রতিবন্ধকতাকে টপকিয়ে তারা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে খেলোয়াড়রা পৌঁছান ২১ তারিখে, বুধবার বেলা ১.৫০ মিনিটে। উৎসবমুখর পরিবেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যৌথভাবে শিরোপাজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেয়। বিমানবন্দর থেকে বিআরটিসির ছাদখোলা বাসে ওঠেন দক্ষিণ এশিয়ার সাফজয়ী বাংলাদেশের মণিকা, মারিয়ারা।

খোলা ছাদের বাসে দলের অধিনায়ক সাবিনাকে দেখতে পাওয়া যায় হাস্যোজ্জল মুখে। তাদের অভিনন্দন জানাতে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে তাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খেলোয়াড়দের জন্য নানা আয়োজনে ছিল ভরপুর। অনেক পুরস্কারসহ অনেক সম্মানে তাদের ভূষিত করা হয়। জাতি আজ তাদের সাফল্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।

তারাও দেশের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তাদের কাছে যাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা, শিক্ষা ও নানানভাবে সহযোগিতা পেয়েছেন। বাংলাদেশের নারী ফুটবলার সাবিনা, সানজিদা, রূপনাদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এমনটিই প্রত্যাশা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Oikko Uddokta