এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
গ্রীষ্মের সবচেয়ে ছোট রাতকে ঘিরে ডেনমার্ক ও নরওয়েজুড়ে উদযাপিত হয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন সেন্ট হান্স উৎসব।
সোমবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা থেকে দেশ দুটির সমুদ্রতীর, লেকপাড়, পার্ক ও খোলা প্রান্তরে জ্বলে ওঠে অসংখ্য অগ্নিকুণ্ড (বনফায়ার)। গান, সংগীত, পারিবারিক আড্ডা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অঞ্চল।
সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্টের স্মরণে পালিত এই উৎসব ডেনমার্কে ‘সেন্ট হান্স আফতেন’ এবং নরওয়েতে ‘সেন্ট হান্স’ নামে পরিচিত। তবে এর শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় খ্রিস্টধর্ম-পূর্ব নর্ডিক ঐতিহ্যে, যখন গ্রীষ্মকালীন অয়ন বা বছরের দীর্ঘতম দিনের সময় মানুষ আগুন জ্বালিয়ে অশুভ শক্তি দূর করার বিশ্বাস পালন করত।
ডেনমার্কজুড়ে হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন এ উৎসবে। রাজধানী কোপেনহেগেন, আরহুস, ওডেনসে এবং উপকূলীয় বিভিন্ন শহরে আয়োজন করা হয় বড় পরিসরের অনুষ্ঠান। লোকজ সংগীত, সমবেত কণ্ঠে গান, শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন এবং স্থানীয় খাবারের স্টল ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এবারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হেলসিংগরের ঐতিহাসিক ক্রোনবর্গ দুর্গের কাছে সমুদ্রের ওপর ভাসমান প্ল্যাটফর্মে নির্মিত বিশাল বনফায়ার বা অগ্নিকুণ্ড। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে আগুনের লেলিহান শিখা আর বাল্টিক সাগরের পটভূমি মিলিয়ে তৈরি হয় দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য।
ডেনমার্কের একটি বিশেষ ঐতিহ্য হলো খড় দিয়ে তৈরি ডাইনির প্রতিকৃতি অগ্নিকুণ্ডের ওপর স্থাপন করে তা পুড়িয়ে ফেলা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এর মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে বিদায় জানানো হয়। যদিও ইউরোপের মধ্যযুগীয় ডাইনি নিধনের ইতিহাসের কারণে কিছু এলাকায় এখন এই প্রথা থেকে সরে আসার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গ্রীষ্মকালীন গান ‘ভি এলস্কার ভোর্ত ল্যান্ড’ পরিবেশন। ১৮৮৫ সালে ডেনিশ কবি হোলগার ড্রাখমান রচিত এই গানটি বর্তমানে সেন্ট হান্স উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রতিবেশী নরওয়েতেও একইভাবে উদযাপিত হয়েছে সেন্ট হান্স। স্টাভাঙ্গারসহ বিভিন্ন শহরে পরিবার ও বন্ধুরা অগ্নিকুণ্ড ঘিরে মিলিত হন। দীর্ঘ গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় পিকনিক, সংগীত এবং নানা সামাজিক আয়োজনে অংশ নেন স্থানীয়রা।
ইতিহাসবিদদের মতে, উত্তর ইউরোপের কৃষিভিত্তিক সমাজে গ্রীষ্মের আগমন, প্রকৃতির শক্তি এবং আলোর জয়কে উদযাপন করতেই এ উৎসবের সূচনা। সময়ের সঙ্গে খ্রিস্টীয় ধর্মীয় ঐতিহ্য যুক্ত হলেও এখনো এর অনেক প্রাচীন লোকজ রীতি টিকে আছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মের এই সময়ে পরিবার-প্রতিবেশী ও বন্ধুদের একত্রিত করে আলো, প্রকৃতি এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয় এই উৎসব।







