মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুটি গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন। অভিযোগ, ট্রাম্পের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অগ্রিম প্রবেশাধিকার বিক্রি করে অন্যায়ভাবে লাভবান হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
মামলাটি করেছে প্রকাশনা সংস্থা ‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’ এবং অলাভজনক সংস্থা ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’। বুধবার নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পরিষেবা ‘ট্রুথ এপিআই’ জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অগ্রিম প্রবেশাধিকার অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছে। এতে রাষ্ট্রপতির সরকারি যোগাযোগে গণমাধ্যমের সমান প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। এর বিনিময়ে ট্রাম্প ও ট্রুথ সোশ্যালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পোস্টে রিয়েল-টাইম প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মামলাকারীদের দাবি, এই ব্যবস্থা ‘বাজার-প্রভাবকারী’ সরকারি তথ্যকে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তাদের অভিযোগ, এতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মামলায় মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চম সংশোধনীর অধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে ট্রাম্পের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের সহযোগী ন্যাটালি হার্প এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যানিয়েল স্ক্যাভিনোর নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ট্রুথ এপিআই’। ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক পরিষেবাটি জুলাইয়ে ঘোষণা করা হয় এবং ১ আগস্ট চালু হয়। পরিষেবাটির মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পোস্টে রিয়েল-টাইম প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এজন্য গ্রাহকদের মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ১০ আগস্টের একটি আয়-সংক্রান্ত আলোচনার সময় পর্যন্ত ১০ জনের বেশি গ্রাহক ইতোমধ্যে পরিষেবাটিতে সাবস্ক্রাইব করেছিলেন। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রায়ই ট্রুথ সোশ্যাল ব্যবহার করে এমন নীতি বা সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এসব পোস্টে আগাম বা দ্রুত প্রবেশাধিকার অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের বিষয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মামলায় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’-এর প্রধান সম্পাদক বেন মুয়েসিগ অভিযোগ করে বলেন, ট্রাম্প এমন সরকারি তথ্য বেসরকারীকরণ করে নিজের সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, যা বিক্রি করার অধিকার তাঁর নেই।
অন্যদিকে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ এক বিবৃতিতে বলেছে, রাষ্ট্রপতির যোগাযোগ ইতোমধ্যেই অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অনেক প্ল্যাটফর্মই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক এপিআই সুবিধা দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় ধরনের মালিকানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে তাঁর অংশীদারিত্বের বর্তমান মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটির শুনানি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের একটি ফেডারেল আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে।


