উপমহাদেশের ফুটবলে বাংলাদেশ-ভারত মানেই এক চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতা, বাড়তি উত্তাপ। সেটা ছেলে বা মেয়েদের জাতীয় দল হোক বা বয়সভিত্তিক দল।দুদেশ ফের মুখোমুখি হচ্ছে, ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। মহারণে নামার আগে অপরাজিত থেকে ফাইনালে পা রেখেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপে শিরোপা লড়াইয়ের আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী কোচ মার্ক কক্স ও রোনান-ডেক্লান সুলিভানরা।
টানা দ্বিতীয় শিরোপার জন্য শুক্রবার মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে গত আসরের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার তাদের সেমিতে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে এসেছে লাল-সবুজের দল।
ম্যাচের আগেরদিন বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় আশার কথা বলেছেন কক্স। কোচের মতে, কোন টাইব্রেকারে নয়, ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে শিরোপা জিততে চায় বাংলাদেশ।
কক্স বলেছেন, ‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা খুব ভালো খেলছে। তাদের চমৎকার কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। আমাদেরও কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দারুণ। ভারত একটি বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।’
‘দেখুন, একজন ইংলিশ হিসেবে পেনাল্টি থাকা টুর্নামেন্টে, আমি এটা থেকে দূরেই থাকতে চাই। যদি দেখেন, ১৯৯০ বিশ্বকাপে, ১৯৯৬ ইউরোতে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে, সবসময় ইংল্যান্ড হেরেছিল। এমনকিছু হলে আমি বাংলাদেশের কোচদের উপর ছেড়ে দিব।’
‘৯০ মিনিটের মধ্যে জিততে চাই আমরা। খুবই শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলতে চাই। ভারতও একটা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলবে। আমার মূল কৌশল একটাই এবং মনে করি, সেটা আমাদের দলের জন্য ভালো এবং দলকে সাহায্য করবে।’
খেলাধুলায় বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। দুদলের লড়াইয়ে চাপ থাকে বেশ। বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ নিয়ে কক্স বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সবাই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। শুধু ১৯৪৭-৪৮ পরবর্তী ইতিহাসই নয়, বরং ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সবধরনের খেলার ইতিহাস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সবসময়ই একটা দ্বৈরথ থাকবে। ঠিক যেমন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। মানুষ সবসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে চায়।’
ডেক্লান আগেই জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া, ‘আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, সেমি জিতব এবং তারপর পুরো টুর্নামেন্টটাই জিতব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
বাংলাদেশের যুবারা আসরে শুরু করে ভালো করে দিয়ে। পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে জানান দেয় চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছে। গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। সে ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে। সেমিতে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে ভারত শুরুতে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পাকিস্তানকে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ড্র। সেমিতে ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে আসে তারা।








