মিথ্যেবাদী রাখাল ও বাঘ নিয়ে বহুল প্রচলিত নীতিকথার গল্পটি কারো অজানা নয়। পুরনো সেই ঈশপের গল্পটি নতুন করে চর্চায় এলো অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের বদৌলতে। কী করেছেন সাদিয়া?
সোমবার রাতে সাদিয়া আয়মান তার পেজ থেকে লাইভে এসে কান্না করতে করতে জানান, তার সঙ্গে অলৌকিক কিছু ঘটছে। তিনি অনুভব করেন কালো একটি ছায়া তাকে অনুসরণ করছে। ১০ মিনিটের ওই লাইভে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়ার ভান করেন!
সেই লাইভ দেখে অনেকে ভেবেছিলেন, সত্যি সত্যি সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটেছে! সাদিয়ার কান্নাকাটি ও কথাবার্তা শুনে ভয় পেয়ে অনেকে তাকে নানাভাবে পরামর্শ দিতে থাকেন, কেউ কেউ তাকে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর সাহায্য নিতে বলেন। সবাই যখন অভিনেত্রীর সঙ্গে কী হচ্ছে ভেবে ভয় পাচ্ছিলেন- বিধিবাম, পরে জানা যায়, এটি তার নতুন একটি কন্টেন্ট-এর প্রচারণা কৌশল!
যা নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হচ্ছে সাদিয়াকে। পরে ভিডিও সরিয়ে নেন তিনি। তাতেও যখন সমালোচনার তীব্রতা কমেনি, তখন নিজের ফেসবুকও ডিঅ্যাক্টিভ করে দেন এই অভিনেত্রী।
দিনব্যাপী এ নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। নাটকের বিভিন্ন গ্রুপেও এ নিয়ে চলে আলোচনা। এমনকি সংবাদকর্মীদের অনেকে সাদিয়ার এমন আচরণে তার কাণ্ডজ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলছেন, এসবের কারণে সত্যি সত্যি কেউ বিপদে পড়লেও আর এগিয়ে আসবেনা। যেরকম করুণ পরিণতি বরণ করে নিতে হয়েছিলো গল্পের সেই রাখাল বালকটিকে। জোর দিয়ে অনেকে বলছেন,নাটক-ওটিটির প্রচারে এমন হীন প্রচারকৌশল অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
এরমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন সাদিয়া আয়মান। আত্মপক্ষ সমর্থন করে সাদিয়া জানান, প্রথমে তিনি এমন প্রচারণা করতে সম্মত হননি। কিন্তু ওয়েব ফিল্মের সাথে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধে এমনটা করেছেন। ধারণা ছিল, সাধারণ মানুষ এমন কৌশলকে হয়তো সিনেমা বা নাটকের প্রচারণার অংশ হিসেবেই মেনে নিবে। কিন্তু মানুষ তার ফেসবুক লাইভে সিরিয়াস হয়ে যাবে, সেটা ভাবতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে অনুশোচনার কথাও জানান সাদিয়া। বলেন,“প্রোডাকশন হাউজের অনুরোধেই কাজটা করতে হয়েছে। যখন বুঝতে পারলাম, পুরো বিষয়টি আমার ভক্তদের আঘাত করেছে, এরপর থেকেই নিজের কাছে খারাপ লাগছে। মনে হচ্ছে, কাজটা করার আগে আমার অন্তত ১০ বার ভাবা উচিত ছিল।”








