ক্রিকেট ছেড়েছেন একযুগেরও বেশি সময় আগে। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হয়েছেন শুরুতে। এখন তো জাতীয় দলেরই কোচ। খেলোয়াড়ি জীবন ও কোচিং, দুটোতেই বেশ সফল ‘দ্য ওয়াল’খ্যাত কিংবদন্তি। তবে খেলোয়াড় হিসেবে সফলতা পেতে বেশ কাঠখড় পোহাতে হয়েছিল। এতদিনে এসে সেসব কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন রাহুল দ্রাবিড়।
খেলোয়াড়ি জীবনে খুব ধীরগতির ব্যাটার ছিলেন দ্রাবিড়। পারতেন না বীরেন্দ্র শেবাগ বা শচীন টেন্ডুলকারের মতো দ্রুত রান তুলতে। সেটা তার পক্ষে সম্ভবও ছিল না বলেছেন। চাপ নেয়ার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল ডানহাতি ব্যাটারের। সেটাই তাকে অনন্য এক তারকা বানিয়েছে বলে মনে করেন।
‘চাইলেও কখনো বীরেন্দ্র শেবাগের মতো হতে পারতাম না। খেলার বাইরের ব্যক্তিত্বের কারণে ওর কাছে সুইচ অফ করাটা খুব সহজ ছিল। আমি কখনই সেই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না। কিন্তু বুঝতে পারতাম এটা আমার জন্য ভালো সঙ্কেত নয়। বুঝতে পেরেছিলাম আমাকে একটা রাস্তা বের করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে আরও শক্তিশালী বানাতে শুরু করি।’
‘ক্যারিয়ার যত এগিয়েছে, বুঝতে পেরেছি কখনই শেবাগ বা শচীনের মতো দ্রুত রান করতে পারব না। আমার সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন ছিল। আমার এবং বোলারের মধ্যে প্রতিযোগিতা পছন্দ করতাম। লক্ষ্য করলাম, এটি একটু বেশি ফোকাস করতে সাহায্য করছে আমাকে।’
মানসিক শক্তিকে জিম ও অনুশীলনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন দ্রাবিড়। সারাক্ষণ খেলা নিয়ে চিন্তা করাটাও অনেক সময় ক্রিকেটারদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা রোহিত-কোহলিদের কোচের।
‘জিমে অতিরিক্ত সময় কাটানো বা অনুশীলনের মতো মানসিক প্রশান্তিও খুব জরুরি। এতকিছু করেও মানসিকভাবে যদি সবসময় খেলার চিন্তা থেকে দূরে থাকতে না পারি, তাহলে খেলার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যাবে না। এই বিষয়টি যখন বুঝতে পারি, তখন সুইচ অফ করার চেষ্টা করি এবং সেটা আমাকে অনেকটা সাহায্য করেছে।’
ভারতের হয়ে ১৬৪ টেস্ট খেলেছেন দ্রাবিড়। ৫২ গড়ে করেছেন ১৩,২৮৮ রান। ৩৪৪ ওয়ানডেতে ৩৯ গড়ে ১০,৮৮৯ রান করেছেন কিংবদন্তি এ ব্যাটার।








