বাংলাদেশে অবস্থিত আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে “লজিস্টিকস খাতের প্রেক্ষাপট নির্মাণ: প্রতিবন্ধকতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয়” শীর্ষক একটি অংশীজনভিত্তিক আলোচনা আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের লজিস্টিকস খাতের সদস্য, রপ্তানি-প্রস্তুত পোশাক খাত, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, এয়ারলাইনস, কুরিয়ার সার্ভিস এবং উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ কমার্শিয়াল কাউন্সেলর জনাব পল ফ্রস্ট এবং এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে জনাবা এরিন কোভার্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি ও লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞ জনাব সৈয়দ এরশাদ আহমেদ লজিস্টিকস খাতের মৌলিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যদিও বাংলাদেশে খাতটি কিছুটা বিকশিত হয়েছে, তবুও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার তুলনায় দেশের সক্ষমতা এখনও পিছিয়ে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিকার্বনাইজেশন, ভূ-রাজনীতি ও আঞ্চলিকীকরণ লজিস্টিকস খাতকে দ্রুত পরিবর্তিত করছে।
ড. এম. মাসরুর রিয়াজ, চেয়ারম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ, লজিস্টিকস খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ব্যয় হ্রাস, সরবরাহের দ্রুততা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম করিডরে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব দেশের বাণিজ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
জনাব মাহবুবুল আনাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএফ গ্লোবাল, ঢাকার বিমানবন্দরের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় এবং ই-কমার্স নির্ভর এক্সপ্রেস লজিস্টিকস পরিচালনার জটিলতার দিকে নজর দেন। তিনি কার্যকর সরকারি–বেসরকারি সহযোগিতা ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পরিবহন বিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ ববি জানান, জাতীয় লজিস্টিকস নীতি ২০২৫ বাস্তবায়নে প্রয়োজন—নীতি সরলীকরণ, বহুমুখী অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল আধুনিকায়ন।
অংশগ্রহণকারীরা বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা, মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস হাব এবং ডিজিটাল বাণিজ্য উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এছাড়াও শুল্ক আইন ২০২৩ কার্যকর করার মাধ্যমে লেটার অব ক্রেডিট নির্ভরতা কমানো ও সহজ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।
আলোচনায় রপ্তানি-প্রস্তুত পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা, নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা এবং ইলেকট্রনিক ডকুমেন্টেশনের দুর্বল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মূল উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে উন্নত রেল সংযোগ, কোল্ড চেইন সম্প্রসারণ, এআই-সক্ষম কার্গো ভিজিবিলিটি সিস্টেম, এবং দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর নীতি প্রণয়ন।








