ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েই চলেছেন শুভমান গিল। ওয়ানডে ফরম্যাটে ২৪ বর্ষী ডানহাতি ব্যাটার দেখিয়ে যাচ্ছেন দারুণ ধারাবাহিকতা। পাঞ্জাবে জন্ম নেয়া ক্রিকেটারের সামনে রয়েছে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার হাতছানি।
১৯৯৮ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে ওয়ানডেতে সর্বাধিক ১,৮৯৪ রান করেছিলেন শচীন। লিটল মাস্টারের সেই রেকর্ড ভাঙতে গিলের দরকার ৬৬৫ রান।
গিলকে যদি অতি মাত্রায় বিশ্রাম নেয়া না হয় কিংবা তিনি অপ্রত্যাশিত চোটে না পড়েন, তাহলে শচীনের রেকর্ড ভাঙতে তিনি কমপক্ষে ১২ ম্যাচ হাতে পাবেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপে লিগপর্বে ভারতের নয়টি ম্যাচ খেলবে। ডিসেম্বরে সাউথ আফ্রিকা সফরে ভারত খেলবে তিন ওয়ানডে। বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার দল সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেললে আরও দুই ম্যাচে পাবেন বাড়তি সুযোগ।
কমপক্ষে ১২ ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে গিলকে প্রতি খেলায় গড়ে করতে হবে ৫৫.৪২ রান। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার গিল চলতি বছর ২০ ম্যাচ খেলে ৭২.৩৫ গড়ে ১০৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১,২৩০ রান। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে টিম ইন্ডিয়ার তরুণ তুর্কি গড়তে পারেন নতুন রেকর্ড।
শচীনকে ছাড়ানোর আগে অবশ্য বিরাট কোহলি, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নারকে টপকানোর সুযোগ পাবেন ভারতের ওপেনিং ব্যাটার। কোহলি ২০১৭ সালে ৭৬.৮৪ গড়ে করেন ১,৪৬০ রান। ২০০৭ সালে পন্টিং ৭৯.১১ গড়ে করেছিলেন ১,৪২৪ রান। ওয়ার্নার ২০১৬ সালে ১০৫.৪০ স্ট্রাইক রেটে করেন ১,৩৮৮ রান।
গিল ছাড়া সম্ভবত কেউ রেকর্ড ভাঙতে পারবে না:
ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যে উঠেছে প্রশ্ন। গত জুলাইয়ে ক্রিকেটের মান উন্নয়ন ও সূচির সুবিধার্থে ওয়ানডে ক্রিকেট কমিয়ে আনতে সুপারিশ করেছে ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সংস্থাটির ভাষ্য, বিশ্বকাপের বছর ছাড়া ৫০ ওভারের দ্বিপাক্ষিক সিরিজেরও প্রয়োজন নেই। শুধু বিশ্বকাপের আগে হতে পারে ছেলেদের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
এমসিসির ক্রিকেট কমিটিতে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা, সৌরভ গাঙ্গুলি, হিদার নাইট, রমিজ রাজা, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ঝুলন গোস্বামী ও ইয়ন মরগান। ইংল্যান্ডে চলতি অ্যাশেজ সিরিজের ফাঁকে লর্ডসে মিলিত হয়েছিলেন কমিটির সদস্যরা। আলোচনা সারেন সেখানেই।
তাদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে অনেক ক্রিকেটারই আগেভাগে অবসর নিয়ে নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে ওডিআই ম্যাচ কমে গেলে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে অনেকটা জায়গা ফাঁকা হবে। এতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলারও বেশি সুযোগ পাওয়া যাবে। তাতে ক্রিকেটাররাও হয়তো সঠিক সময়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নেবেন।
আগামী মাসে আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলছে সব দলের প্রস্তুতি। স্বাভাবিকভাবেই একদিনের ক্রিকেট খেলার প্রবণতা সবার মধ্যে লক্ষণীয়। এরপর ২০২৪ সালে টি-টুয়েন্টি বিশকাপের আগে সবাই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে খেলতেই আগ্রহ দেখাবে। তার উপর ২০২৭ ওয়ানডে বিশকাপের পর ওয়ানডের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও টুর্নামেন্টের সূচি হয়নি নির্ধারণ। টি-টুয়েন্টি যুগে সময়ের দাবি মেটাতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় একদিনের ক্রিকেট।
আইসিসিসহ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো ওয়ানডের প্রতি আগ্রহ হারালে ফরম্যাটটির অনেক রেকর্ডই হয়তো থেকে যাবে অক্ষত। এমন বাস্তবতা সামনে দাঁড় করালে শচীনের রেকর্ড গিলেরই ভাঙার সম্ভাবনা সবচেয়ে জোরালো। এক পঞ্জিকাবর্ষে ওয়ানডেতে সর্বাধিক রানের রেকর্ডটি ভারতের তরুণ ক্রিকেটার না ভাঙলে আর হয়তো কেউই পারবেন না।








