রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ ক্রমেই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বুধবার ২০ নভেম্বর রাশিয়া ইউক্রেনে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) নিক্ষেপ করেছে যা কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, আইসিবিএম যা সাধারণত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবার প্রচলিত ওয়ারহেড দিয়ে নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দাবি, এটি ছিল রাশিয়ার প্রথম আইসিবিএম ব্যবহার, যা দেশটির নতুন কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। যদিও ইউক্রেন ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে, তবে রাশিয়ান আইসিবিএম সেগুলোর মধ্যে ছিল কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সম্প্রতি ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার জন্য দূরপাল্লার ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘এটিএসিএমএস’ এবং যুক্তরাজ্যের নির্মিত ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনার পরপরই রাশিয়া আইসিবিএম নিক্ষেপ করে, যা মস্কোর শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় পদক্ষেপ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইউক্রেনের ডিনিপ্রো শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেখানকার অবকাঠামোকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একটি শিল্প কমপ্লেক্স এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি, বসতবাড়ি ও অন্যান্য ভবনেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়ান বাহিনী আজ সকালে কেন্দ্রীয় ইউক্রেনীয় শহর ডিনিপ্রোতে বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যার উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনীয় অবকাঠামোকে পঙ্গু করা। রাশিয়ান ফেডারেশনের আস্ট্রখান অঞ্চল থেকে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো আইসিবিএম নিক্ষেপ করলো রাশিয়া। আইসিবিএম উৎক্ষেপণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এই বিষয়ে তার কিছু বলার নেই।
এর আগে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি মস্কোর পারমাণবিক মতবাদে পরিবর্তন এনেছেন, যা রাশিয়ার নীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নতুন নীতি অনুযায়ী, রাশিয়া এখন অ-পারমাণবিক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে। যদিও ক্রেমলিন দাবি করেছে যে তারা পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই পদক্ষেপটিকে পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি কৌশলগত সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।







