ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে একে ‘মিডিয়া গেইম’ বলে অভিহিত করেছে।
রোববার (৩১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। গণমাধ্যমটির বরাত অনুযায়ী, চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে প্রেসিডেন্ট ও সরকারকে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট শূন্যতার সুযোগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পরিচালনা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য তিনি অবিলম্বে দায়িত্ব ছাড়ার অনুমতি চেয়েছেন বলে দাবি করা হয়। যদি এমন কোনো পদত্যাগপত্র সত্যিই জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে গভীর মতপার্থক্য ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের ইঙ্গিত বহন করবে। গত কয়েক মাস ধরে দেশটির বেসামরিক প্রশাসন এবং সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল।
তবে এসব দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান সরকার। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বিদেশি কিছু গণমাধ্যম পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির দাবিও নাকচ করে দিয়ে বলেন, ইরানের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা সফল হবে না।
একইসঙ্গে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিও পদত্যাগের খবরকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির বরাতে ইরান টুডে জানায়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিগুলোও পরিকল্পনা অনুযায়ী অব্যাহত রয়েছে।পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ এর তথাকথিত সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্সির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। ফলে পদত্যাগের গুঞ্জন এবং সরকারি অস্বীকারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের তথ্য নিশ্চিত করেনি।








