বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন গার্মেন্টসকর্মী রুবেল মন্ডল। তার মাথা ও শরীরে মোট ৮টি গুলি লাগে। পরে শরীর থেকে ৬টি গুলি বের করা হলেও মাথায় লাগা ২টি গুলি অর্থভাবে বের করা হয়নি। আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নিলেও সেসুবিধা পাননি রুবেল।
আহত রুবেল মন্ডল গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের বড় শিমুলতলা নয়াপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে।
পারিবার জানায়, পারিবারের অভাব অনটনে থাকায় প্রায় ১১ বছর আগে ঢাকায় যান রুবেল। তিনি ঢাকার আশুলিয়া থানার ভাদাইল এলাকায় রেজা ফ্যাশন নামের একটি গার্মেন্টস এ চাকরি করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট গার্মেন্টস ছুটির পর আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনে অংশ নেন রুবেল। ওই দিন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে পুলিশের ছোড়া গুলি রুবেলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে রুবেল মাটিতে নুয়ে পড়লে সাথে থাকা ছোট ভাই ওয়াসিম তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকার মাউথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শরীরে বিদ্ধ হওয়া ৬টি গুলি বের করা হলেও মাথার ২টি গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। পরে হাবীব ক্লিনিকে নিয়ে গেলেও শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় গুলি বের করার চেষ্টা করা হলেও গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।

নিউরো সাইন্স হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মাথার গুলি বের করা সম্ভব নয় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। তবে উন্নত চিকিৎসা হলে মাথায় লাগা গুলি ২টি বের করা সম্ভব বলেও জানান ডাক্তার। এছাড়া ক্ষত স্থানগুলো শুকানোর জন্য এক মাসের ওষুধ দেন তারা।
পরে ২৮ আগস্ট নিজ গ্রামে চলে আসেন রুবেল। বাড়ি আসার পর থেকে টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। আহত রুবেল মন্ডল সুচিকিৎসার জন্য স্থানীয় উপজেলা সমন্বয়কের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান, তবে এর সঠিক ফল না পেয়ে পুনরায় বাড়ি ফিরে আসেন। রুবেল সুচিকিৎসা পেতে ধর্না দিচ্ছেন বিভিন্ন জনের কাছে।
রুবেলের পরিবারে বয়েছেন স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান। এছাড়া বৃদ্ধ বাবা ও মাসহ ছোট দুই ভাই ও এক বোন।
রুবেল জানান, আহত হওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করতেন। তবে তার অসুস্থতার কারণে এখন দুইজনেই বেকার হয়ে বাসায় পড়ে আছেন। এছাড়া মাথায় গুলি থাকায় যন্ত্রণা নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে তাকে। এখন সবচেয়ে জরুরি সুচিকিৎসার প্রয়োজন।
এদিকে ছেলের সুচিকিৎসার অভাবে ভবিষ্যৎ জীবন অন্ধকারের আশঙ্কা করছেন রুবেলের বাবা বাবলু মন্ডল।







