ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডময় জোড়া গোলের রাতে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল উৎসব করেছে পর্তুগাল। দুই গোলে হরেক রেকর্ড করেছেন ৪১ বর্ষী মহাতারকা। দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়ে ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি ইউসেবিওকে।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার উজবেকিস্তানকে ৫-০তে হারিয়েছে রোনালদো বাহিনী। জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠল পর্তুগাল। একটি করে ম্যাচ খেলা কলম্বিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ও ডিআর কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে। দুই ম্যাচ খেলে উজবেকিস্তান এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
পর্তুগালের প্রথম সুযোগ আসে ব্রুনো ফের্নান্দেজের কাছে দ্বিতীয় মিনিটে, হাতছাড়া করে বারের বাইরে দিয়ে মারেন তারকা মিডফিল্ডার। পরের মিনিটে সুযোগ পান রোনালদো, বারের বাইরে দিয়ে মারেন তিনিও। ষষ্ঠ মিনিটে আর ভুল করেননি রোনালদো, জোয়াও ক্যানসেলোর অ্যাসিস্টে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোল তোলেন মহাতারকা।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম গোলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন রোনালদো। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি আলাদা বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়েছেন ৪১ বর্ষী সিআর সেভেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ বিশ্বকাপে গোল আছে লিওনেল মেসির।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এই গোলে হন রোনালদো। ছয় আসরে এটি ছিল নবম গোল তার। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে ৯টি গোল করে রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি ইউসেবিওর। এটিতে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী (৪১ বছর ১৩৮ দিন) গোলদাতা হয়েছেন তিনি। শীর্ষে ক্যামেরুন কিংবদন্তি রজার মিলা, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর বয়সে গোল করেছিলেন।
১৫ মিনিটে উজবেকিস্তান বক্সের কাছে পেদ্রো নেতোকে ফেলে দিলে ফাউল পায় পর্তুগাল। সেখান থেকে বেশ খানিকটা সময় নিয়ে রোনালদো শট নেয়ার ভঙ্গি করেন, তবে শট নেন নুনো মেন্ডেস। দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যায় পর্তুগাল, ২-০তে এগিয়ে যায় দলটি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করেন উজবেকিস্তান ফরোয়ার্ড আজিজন গানিয়েভ। আগেই জোয়াও ক্যানসেলোকে ফাউল করায় গোলটি বাতিল করা হয়।

কিছুপর আবারও রেকর্ডের মালিক হন রোনালদো, ৩৯ মিনিটে ফের্নান্দেজের পাসে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এটির মাধ্যমে দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়েছেন রোনালদো। ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯ গোল)। বিশ্বকাপে রোনালদোর গোলের সংখ্যা এখন ১০টি।
প্রথমার্ধে উজবেকিস্তান আরও একটি আশা জাগালেও গোল করতে পারেনি। পর্তুগালও কিছু সুযোগ তৈরির চেষ্টায় ছিল, বিরতির ঠিক আগের মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসলেও কাজে লাগাতে পারেনি রোনালদো। পরে ৩-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় পর্তুগাল।
বিরতির পর আবারও গোলের দেখা পায় পর্তুগাল। এবার কর্নার থেকে নিজেদের জালে বল জড়ান উজবেক গোলকিপার আব্দুভোহিদ নেমাতোভ। ৪-০ গোলে এগিয়ে যান দিয়াস-ক্যানসেলোরা। দ্বিতীয়ার্ধে এক গোল দিয়ে নয় মিনিট পর হাইড্রেশন বিরতিতে যায় দুদল।
৭২ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হয় রোনালদোর। উজবেকিস্তানের পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে তিনি জোরাল শট নিয়ে বলটি গোলপোস্টের কোণার দিকে পাঠান, কিন্তু নেমাতভ নিচু হয়ে তা আটকে দেন।
শেষদিকে ৮৪ মিনিটে আরও একটি সুযোগ গোলে পরিণত করতে পারেননি ব্রুনো ফের্নান্দেজ। ৮৭ মিনিটে বদলি নামা রাফায়েল লিও পর্তুগালের ব্যবধান আরও বাড়ান। রাইট উইং থেকে নেলসন সেমেদোর বাড়ানো বলের নাগাল পাননি রোনালদো, বল পেয়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান লিও, ৫-০তে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ওই ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।







