‘রোবোটিক এনজিওপ্লাস্টি’ ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক বলেন, দেশে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কোন চিকিৎসক নেই। মূলতো ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা দামের এই যন্ত্রটি কিনতে চিকিৎসার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রথমবারের মতো দেশে দুজন রোগীর হৃদযন্ত্রের রক্তনালিতে রোবটের মাধ্যমে স্টেন্ট (রিং) পরানো হয়েছে। ঐ দুই রোগী এখন সুস্থ আছেন। গতকাল (বুধবার) তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা
নতুন এই পদ্ধতির সুবিধা নিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার কর্মকার গণমাধ্যমে বলেছেন, রোবোক্যাথ আর ওয়ান সিস্টেমে ক্যাথল্যাবে একটি রোবোটিক হাত থাকে। দূর থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করেন চিকিৎসকেরা। আগে চিকিৎসকেরা সরাসরি নিজের হাতে যে কাজটি করতেন, সেটি এই পদ্ধতিতে রোবটের মাধ্যমে করা হয়। এতে কাজটি অনেক নিখুঁত হয়। অস্ত্রোপচারে সময় কম লাগে।
প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মমিনুজ্জামান বলেন, এটি দ্বিতীয় প্রজন্মের চিকিৎসা পদ্ধতি। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশের কোন বেসরকারি হাসপাতাল এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাবে না। তবে সরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর একটি সুবিধা আছে, সেটি হলো দূর থেকে পরিচালনা করা সম্ভব।
বিশ্বে এই পদ্ধতি এখনো চিকিৎসায় অনুমোদিত হয়নি
জার্নাল অব নিউরোইন্টারভেনশন এর এ সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এটি সর্বস্তরে ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়।
জানা যায়, দেশে এই যন্ত্র বিক্রির জন্য একটি কোম্পানির পক্ষে সাময়িক ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী এই পদ্ধতি সাধারণ চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়নি। তা ছাড়া এই যন্ত্র ব্যবহারে সামান্য ত্রুটি হলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালক ও বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিবুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা এখনো কনভেনশনাল এনজিওপ্লাস্টি থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। কনভেনশনাল এনজিওপ্লাস্টিতে পারদর্শী না হলে রোবোক্যাথ করার প্রশ্ন আসে না। পৃথিবীর সব দেশেই কনভেনশনাল এনজিওপ্লাস্টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখনো কোথায় এই পদ্ধতিকে ক্লিনিক্যাল ঘোষণা করা হয়নি। সম্প্রতি মুজিবুর রহমান ভুইয়া নামের একজন চিকিৎসক সিঙ্গাপুরে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেন।এই পদ্ধতি বেশ ব্যয়বহুল। তবে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসক বিকিরণ ঝুঁকিমুক্ত থাকেন। তবে ছোট খাটো সমস্যা হলেও রোগী জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
ব্যয়বহুল চিকিৎসা অপ্রয়োজনীয়
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মমিনুজ্জামান বলেন, আমাদের মতো দরিদ্র দেশে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি অপ্রয়োজনীয়।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালক আফজালুর রহমান বলেন, রোবোক্যাথ আর ওয়ান সিস্টেমে বিষয়টি এখনও পরীক্ষামূলক। এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসে নি।







