এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
শিশুদের জীবনে কার্টুন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শেখারও একটি উৎস। এমনই এক কার্টুন হলো ডোরেমন। যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুদের আনন্দ ও প্রেরণা দিয়ে আসছে। জাপানি মাঙ্গা শিল্পী ফুজিকো এফ ফুজিও—এর সৃষ্ট এই গল্পে কল্পনা, প্রযুক্তি ও বন্ধুত্ব একসাথে মিলেমিশে এক অনন্য জগৎ তৈরি করেছে।
ডোরেমন হলো ভবিষ্যতের ২২তম শতাব্দী থেকে আসা এক রোবট বিড়াল, যে সাহায্য করতে আসে এক ছোট্ট ছেলেকে—নোবিতা নোবি। নোবিতা একজন সরল ও দুর্বল ছাত্র, যে প্রায়ই নানা কাজে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ডোরেমনের সহায়তায় সে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে শেখে। তাদের গল্প শুধু এক রোবট আর এক ছেলের নয় এটি বন্ধুত্ব, সাহস, আর শেখার এক অসাধারণ যাত্রা।
নোবিতার জীবনে ডোরেমন ছাড়াও আরও চারজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছে শিজুকা, জায়ান, সুনেও, এবং ডেকিসুগি। তারা একসাথে নানা রোমাঞ্চকর অভিযানে অংশ নেয়, ঝগড়া করে, আবার মিলেও যায়। তাদের এই সম্পর্কের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায় বন্ধুত্বের প্রকৃত রূপ যেখানে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও ভালোবাসা ও সহানুভূতি কখনও হারিয়ে যায় না।
সত্যিকারের বন্ধুরা কখনও দূরে থাকে না; তারা হয়তো দূরত্বে থাকে, কিন্তু হৃদয়ে নয়।
একদিন নোবিতা জানতে পারে, একটি ইঁদুর ডোরেমনের কান কেটে ফেলেছে যেটিই ছিল তার শক্তির উৎস। ফলে ডোরেমন নিজেকে আর রিচার্জ করতে পারছে না। প্রিয় বন্ধুর এমন বিপদে নোবিতা ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়ে না। সে সিদ্ধান্ত নেয়, যেভাবেই হোক ডোরেমনকে ঠিক করবে। এই কঠিন কাজের জন্য নোবিতা সাহায্য চায় তার বন্ধুদের কাছে।
শিজুকা মানসিক সমর্থন দেয়, জায়ান ও সুনেও তাদের দক্ষতা দিয়ে মেরামতের কাজে সহায়তা করে। একসাথে তারা ডোরেমনের জটিল যন্ত্রপাতি বুঝে নেয়, কাজের সময় স্মরণ করে তাদের পুরনো অভিযানের স্মৃতি। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও একাগ্রতার পর অবশেষে তারা সফল হয়। নোবিতা যখন সুইচ অন করে, ডোরেমনের চোখ ঝলমল করে ওঠে এবং সে হাসিমুখে বলে, “নোবিতা, আমি ফিরে এসেছি!”
এই মুহূর্তটি শুধু এক রোবটের পুনর্জীবন নয়, বরং বন্ধুত্বের জয়ের প্রতীক। এই গল্প আমাদের শেখায়, সত্যিকারের বন্ধুত্ব মানে একে অপরের পাশে থাকা যখন আনন্দ ভাগ করতে হয়। কিংবা কষ্টের সময় শক্তি জোগাতে হয়। ডোরেমন ও নোবিতার সম্পর্ক তাই কেবল এক কল্পকাহিনি নয়। বরং জীবনের এক বাস্তব শিক্ষা যেখানে ভালোবাসা, সহযোগিতা, এবং বিশ্বাসই বন্ধুত্বের আসল শক্তি।








