এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভুয়া ‘আইডি কার্ড’ বানিয়ে অপরাধী দ্বীন ইসলাম ওরফে কাউসার আহমেদ ও তার চক্র ডাকাতি করতেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁতিবাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা করতে আসা ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারীদের টার্গেট করত। চক্রটি ব্যবহার করতেন ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকি, ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তল, পকেট রাউটার, মোবাইল, এক্সপেন্ডেবল লাঠি ও লেজার লাইট।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন ‘দেখে বোঝাও যায় না ভুয়া আইডি কার্ড’। গ্রেপ্তার আসামিদের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় দ্বীন ইসলামের নামে দশটি, আব্দুর রহমানের নামে তিনটি, মেহেদী হাসানের নামে চারটি, বাবুল হাওলাদারের নামে দুইটি ও রমিজ তালুকদারের নামে চারটি ডাকাতি মামলা রয়েছে।
বুধবার রাতে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের পাশে লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্য গ্রেপ্তার শাহবাগ থানা পুলিশ। এ সময় চক্রের আরও পাঁচ সদস্য কৌশলে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, চক্রের প্রধান দ্বীন ইসলাম ওরফে কাউছার আহমেদ, কামাল হাওলাদারসহ তাদের সহযোগী আব্দুর রহমান হাওলাদার, মেহেদী হাসান ওরফে হাসান, বাবুল হাওলাদার, রমিজ তালুকদার ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোড মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের প্রচুর পেইড সোর্স আছে। তারা সোর্সের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের টার্গেট করে। তারা কোন ডাকাতি করলো বা তারা কোন সফল অপারেশন করে সে ক্ষেত্রে টাকার ভাগ সোর্সেরা বেশি পায়। যদি অপরাধীরা এক লাখ টাকা করে ভাগ পায়, সে ক্ষেত্রে সোর্সেরা দেড় লাখ টাকা পায়। আমরা অনেক সময় দেখেছি বিভিন্ন ব্যাংকে কাজ করার বা টাকা তোলার ভান করে। কিন্তু আসলে তারা সে সময় ব্যাংকে আসা বয়স্ক ব্যক্তি, একা ব্যক্তি বা বড় অংকের টাকা উত্তোলন করতে আসা ব্যক্তিদের ওপর টার্গেট করে।
মাসুদ আলম বলেন, ডাকাতদল রাজধানীর গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারের দক্ষিণ পাশে লেগুনা স্ট্যান্ডের সামনে ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শাহবাগ থানার একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৪-৫ জন ডাকাত সদস্য কৌশলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতকদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যহত রয়েছে।








