বাংলাদেশে নায়ক নায়িকাদের যতগুলো জুটি গড়ে উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রিয়াজ-শাবনূর জুটি ছিল অন্যতম সফল! আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে এই জুটির ছবি মানেই ছিলেন দর্শকদের কাছে স্বস্তির নিঃশ্বাস! ৪০টির বেশি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করে রিয়াজ-শাবনূর জুটি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
২০১২ সালের পর রিয়াজ-শাবনূর দুজনেই সিনেমার অনিয়মিত হয়ে পড়েন। ভেঙে যায় দর্শক নন্দিত জুটি।
মাঝেমধ্যে দু’একটি ছবিতে রিয়াজকে দেখা গেলেও শাবনূর অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস করতে শুরু করেন। সম্প্রতি আবার সিনেমায় ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন শাবনূর। আলাদা আলাদা ভিডিওতে জানিয়েছেন, তিনি ‘রঙ্গনা’ এবং ‘মাতাল হাওয়া’ নামে ছবি দুটিতে অভিনয় করবেন। সিনেমায় আবার ফিরে আসার ঘোষণায় শাবনূরকে বাহবা দিচ্ছেন তার অনুসারীরা। শাবনূর নিজেও বলেছেন, তিনি ওজন কমিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে তারপর সিনেমা করবেন।
একটি বেসরকারি টিভির ‘বিনোদন সারাদিন’ অনুষ্ঠানে শাবনূরের সিনেমায় ফেরা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। তিনি বলেছেন, সিনেমা যদি করতে হয় সে (শাবনূর) ভালো কিছু করুক। সবসময় তার জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা আছে। কিছুদিন আগে একটি ঘরোয়া পার্টিতে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, কংগ্রাটস জানিয়েছি। তবে আমি বলবো, যদি সে (শাবনূর) সিনেমা করতে চান, তাহলে এতদিন বিরতিতে থাকার মানে কি ছিল?
“অনেকসময় আমরা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। শাবনূর কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানি না। যদি সিনেমা করতে চায় বন্ধু হিসেবে আমি শাবনূরের উদ্দেশে বলবো, তার উচিত হবে ২০২৪ সালে এসে ২০২৪ এর কনটেন্ট, স্ক্রিপ্ট এবং পরিচালক নির্বাচন করে ছবি করা। শাবনূরকে এমনিতেই মানুষ ১০০ বছর মনে রাখবে। তবে সে (শাবনূর) আবার যে ছবি করবে, সেই ছবি যেন তাকে পরবর্তীতে আরও ১০০ বছর বাঁচিয়ে রাখে।”
শাবনূরের উদ্দেশে রিয়াজ আরও বলেন, তাকে মনে রাখতে হবে সে যে সময়টা বিরতি নিয়েছিল, এর মাঝে বাংলাদেশের সিনেমা এবং মিডিয়াতে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। আগের অনেকেই ছিল যারা এখন বেঁচে নেই। তাই যদি শাবনূর স্ক্রিপ্ট, ডিরেক্টরসহ পুরো টিম ঠিকঠাকভাবে সিলেক্ট করে আবার সিনেমা করে তাহলে আমি বলতে চাই, তার সিনেমায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত সঠিক হবে।
বলিউডে রিয়াজের সময়কার নব্বই দশকের অভিনেতারা আজও চলচ্চিত্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ তাদের সিনেমা দিয়ে শত কোটি ক্লাবে পা রাখছেন। অথচ রিয়াজ কেন অনিয়মিত? উত্তরে হৃদয়ের বন্ধন, মোল্লা বাড়ির বউ, ও প্রিয়া তুমি কোথায়, স্বপ্নের বাসর, শ্বশুড়বাড়ি জিন্দাবাদসহ বহু জনপ্রিয় সিনেমার নায়ক রিয়াজ বলেন, এখনও বাংলা চলচ্চিত্র একজন অভিনেতাকে ইকনোমিক সিকিউরিটি দেয়ার উপযোগি হয়নি। শুধু অভিনয় করে জীবন কাটানো যাবে এই গ্যারান্টি চলচ্চিত্র দেয় নাই। দিনশেষে সার্ভাইভ করতে হয় অথবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইতে হয়। আমি এটা পছন্দ করি না। আমি মনে করি, এর বাইরে শিল্পীদের উত্তরণে যদি কিছু করতে পারি সেটা ভালো হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
এখনকার পরিচালকদের কথা উল্লেখ করে রিয়াজ বলেন, দিলীপ বিশ্বাস, মতিন রহমান, মোহাম্মদ হান্নান, হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পেতাম। কাজ করতে গিয়ে অনেককিছু শিখতে পারতাম। এখন যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে মেধাবীদের সংখ্যা কম। বেশিরভাগই নাটককে সিনেমা বলে চালাতে চাচ্ছে। অথবা বিলো স্ট্যান্ডার্ড কনটেন্ট, যেটা আগে একাধিকবার হয়েছে সেটাকে নিয়ে বিশাল কিছু করেছে, এমনটা জানান দিচ্ছে। এসব নিয়ে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছে। আমার মনে হয় তাদের গভীরতা কম, বাংলা সিনেমা অতীত ইতিহাস তারা সঠিকভাবে জানে না। এসব নির্মাতার সঙ্গে কাজ করা অনেক কঠিন। তাছাড়া ভালো গল্প, সঠিক প্রেজেন্টেশন পাইনা। এ কারণে কাজ করা হয় না।







