ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইন বাতিলের কথা জানিয়েছে (ইবি) শেখ হাসিনা হলের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা হলের যাবতীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামসুল হক সিদ্দিকীর নিকট।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হলটির টিভির রুমে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর সাথে মত বিনিময় সভা করেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শামসুল হক সিদ্দিকী। এসময় শিক্ষার্থীরা সান্ধ্য আইন বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীরা হলের অন্যান্য সমস্যার কথা বলতে গিয়ে বলেন, হলে সিট সংকট, ওয়াইফাই ইন্টারনেটের ধীরগতি, পানির সমস্যা, ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়নসহ সান্ধ্য আইন বাতিলের কথা।
হলের যৌক্তিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের এই বৈষম্য আন্দোলনের উদ্দেশ্যই ছিল দেশ থেকে বৈষম্য দূর করা, সেই প্রেক্ষিতে আমরা চাই হলেও প্রতিটা সেক্টরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর হোক।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, জুনিয়ররা সিঙ্গেল সিটে অবস্থান করছে এবং সিনিয়ররা ডাবলিং করে আসছে, এটা দেখতে অনেকটা দৃষ্টিকটু। হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একান্ত সান্ধ্য আইন বাতিল না করতে পারলেও হলে প্রবেশে নিয়মের বিষয়ে কিছুটা শিথিলতার দাবিও করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা জানায়, রেফারেন্সের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছে। রেফারেন্সের সিটগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে অনেকাংশে সিট ক্রাইসিস দূর করা সম্ভব। তাছাড়া হলে যথাযথ পরিচ্ছন্নতা দাবি জানায় তারা। এর পাশাপাশি হলের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি সাধনের সাথে সাথে হলের লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
হলের হাউস টিউটর অধ্যাপক খন্দকর আরিফা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতোই। তারা যেভাবে ভালো থাকবে সেভাবেই আমরা কাজ করার চেষ্টা করবো। ইতোমধ্যেই হল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করেছে, আমরা চাই পরবর্তীতেও সকল সমস্যা সমাধান করার। তবে সব কিছুর জন্যই নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন।
সান্ধ্য আইন বাতিলের বিষয়ে প্রভোস্ট বলেন, আমাদের হল কর্তৃপক্ষের কাছে সান্ধ্য আইন বাতিলের এখতিয়ার নেই বরং এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের একটি বিধান বা নিয়ম। তবে কোন শিক্ষার্থী যদি যৌক্তিক সমস্যা বা দরকার দেখিয়ে আমাদের থেকে অনুমতি নিতে পারে তবে তার বিষয়টি আমরা অবশ্যই বিবেচনা করে দেখবো।








