বাংলাদেশ

৮ বছর গুম থাকার বর্ণনায় যা বললেন আবদুল্লাহিল আমান আযমী

আবদুল্লাহিল আমান আযমী সাক্ষাৎকারের ছবি, বাংলার নিউজ পোর্টাল চ্যানেল আই অনলাইন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আবদুল্লাহিল আমান আযমী এক সাক্ষাৎকারে বসে আছেন, পেছনে একটি তথ্যবহুল ব্যানার দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ভারত বিরোধী লেখালেখি ও গোলাম আযমের সন্তান হওয়ার কারণে গুম করা হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, বারবার মনে হতো, তারা হয়তো আমাকে ক্রসফায়ার করে হত্যা করবে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে অনলাইন মাধ্যম জুমের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, গুম অবস্থায় বারবার মনে হতো তারা হয়ত আমাকে ক্রস ফায়ার করে হত্যা করবে। আমি রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে শুধু কান্না করতাম। আল্লাহ আমার লাশটা যেন কুকুরের খাদ্যে পরিণত না হয়। আমার লাশটা যেন আমার পরিবারের কাছে যায়।

কীভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো বিষয়ে তিনি বলেন, যখন আমার বাসায় তারা আসল তখন তাদের কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম আপনারা কারা, পরিচয় কী, পরিচয়পত্র দেখান। আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো ওয়ারেন্ট আছে কি না তা আমি জানতে চেয়েছিলাম। তারা আমার কথার জবাব দেননি। আমার সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে আমাকে নিয়ে গাড়িতে চোখ বেঁধে দেয়। আমার চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় একটা জায়গায় নিয়ে গেল। সেখানেই ফেলে রাখা হয়, অন্ধকার এক ঘরে। সেখানে দিন না রাত এসব কিছুই বোঝা যেত না। টয়লেট যেতে চাইলে চোখ হাত বেঁধে নিয়ে যেত।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা অফিসারের খুনের বদলা চান উল্লেখ করে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, বিগত আমলে যারা তদন্ত করেছে, তারা দায়সারাভাবে তদন্ত করছে।

আট বছর গুম থাকা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি গেল ৮ বছর সেখানে বন্দী থাকা অবস্থায় পৃথিবীর কোনও আলো দেখিনি, আকাশ দেখিনি সূর্য দেখিনি। প্রতি রাতেই ক্রসফায়ারের ভয় থাকতো। তারা খুব দুর্ব্যবহার করত আমার সঙ্গে। তাদের আচরণে আমার বন্দীদশা নিয়ে রাতের পর রাত কেঁদে কেঁদে সময় কেটেছে।

আযমী বলেন, মাঝে মাঝে তারা চোখ এমনভাবে বাঁধতো, মনে হচ্ছিল আমার চোখের মনি ফেটে যাবে। হাতকড়া পরা থাকতে থাকতে হাতে ঘা হয়ে যেত। আট বছর আমি এক অন্ধকার ঘরে ছিলাম, পৃথিবীর কিছুই আমি দেখতে পাইনি এ সময়।

ফিরে আসার পরের অভিজ্ঞতা বিষয়ে আযমী বলনে, ‌আমি ফিরে এসে জানতে পারলাম, আমার পরিবারের ওপর তারা কী পরিমাণ নির্যাতন চালিয়েছে। আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতে চেয়েছিল তারা। এক পর্যায়ে আমার স্ত্রীকে তুলে নিতে চাইলে স্ত্রী আমার মাকে সঙ্গে নিতে বলে তখন তারা তাকে নেয়নি। এ সময় আমার বাড়ির যুবতী কাজের মেয়ের ওপর হাত চালিয়েছে। বাসার ম্যানেজার ও দারোয়ানসহ সবাইয়ের ওপর তারা হামলা চালায়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মরহুম গোলাম আযমের মেজো ছেলে সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী গত ৬ আগস্ট মুক্ত পান ‘আয়নাঘর’ থেকে।

বিষয়:আযমী ক্রসফায়ার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…