পরিচয় গোপন রেখে নেত্রোকোনার বাসাপাড়া গ্রামের একটি খামার বাড়িতে মাছ চাষের করবেন জানিয়ে লিজ নেয় জঙ্গিরা। কিন্তু মাসের চাষের অন্তরালে সেখানে আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্যদের সারাদেশ থেকে রিক্রুট করে নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
বুধবার পুলিশের বিষেশায়িত ইউনিট অ্যান্টি টেররিজমের (এটিইউ) অপারেশন শাখার পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার জঙ্গি আস্তানার ‘প্রধান সমন্বয়কারী’ জাভেদ আবীর ওরফে এনামুলকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য পেয়েছে এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। এর আগে গত ৯ জুন কাইলাটি ইউনিয়নের বাসাপাড়া গ্রামের স্থানীয় একটি খামারবাড়ি ভাড়া নিয়ে মৎস্য খামার পরিচালনার অন্তরালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ এর একটি বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পায় এটিইউ। এটিইউ’র বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও সোয়াট টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করে আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগজিন ও তাজা গুলি, ওয়াকিটকি সেট, হাতকড়া, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ উগ্রবাদী প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে।
পরে এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। রুজুকৃত মামলায় গত ৩০ জুন কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নারী সমন্বয়কারী পারভীন আক্তার (২৪) কে গ্রেপ্তার করে এটিইউ।
এক প্রশ্নের জবাবে এসপি সানোয়ার বলেন, পারভীনকে গ্রেপ্তার করার পর জানা গেছে, নেত্রোকোনার বাসাপাড়া গ্রামের একটি খামার বাড়িতে মাছ চাষের করবেন জানিয়ে লিজ নেয় জঙ্গিরা। কিন্তু মাসের চাষের অন্তরালে সেখানে আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্যদের সারাদেশ থেকে রিক্রুট করে নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। বোমা তৈরী কিভাবে করা হয়, সেগুলো কিভাবে বিভিন্ন হামলায় ব্যবহার করা হবে, জঙ্গিদের টার্গেট ব্যক্তিদের উপর কিভাবে হামলা করা হবে, সেই হামলায় অস্ত্রের ব্যবহার কিভাবে হবে এসবের প্রশিক্ষন দেওয়া হতো। ওই প্রশিক্ষন কেন্দ্রে গত ৪ বছরে শতাধিক সদস্যকে প্রশিক্ষন দিয়েছিলো গ্রেপ্তারকৃত জাবেদ। নেত্রকেনার আস্তানায় অভিযানের পর জাবেদ বরপা এলাকায় নতুন আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। ওই আস্তানার কার্যক্রম সমন্বয় করতেন জাবেদ নিজে।
গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেনও নেত্রকোনায় ‘আনসার আল ইসলাম’ এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বোমা তৈরীতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অভিজ্ঞতার কারনে তিনি তার নিজ ভাড়া বাসায় বোমা তৈরী করে আসছিলেন। এর আগে অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচরনা করার অভিযোগে জাবেদ একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলো কয়েক বছর আগে। ওই মামলায় ৬ মাস কারাভোগ করে জামিন পান। জামিনে এসে জাবেদ সক্রিয়ভাবে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম নিজেকে জড়ায়।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার ছানোয়ার বলেন, আনসার আল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর হামলায় নিস্ত্রিয় থাকলেও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আনসার আল ইসলামের সদস্য আবারো দেশব্যাপী সক্রিয় হওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে তাদের অর্থদাতা হিসেবে যারা সহযোগিতা করছে এমন কিছু ব্যক্তির নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এছাড়া সংগঠনটি যারা এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে এটিইউ। তদন্তের স্বার্থে এখন এসব ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
পারভীন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন বরপা এলাকার একটি বাসায় জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হয় । গত ২ জুলাই সকাল থেকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে রূপগঞ্জের বরপা আড়িয়াবো এলাকার জাকির হোসেন নামের এক সৌদি প্রবাসীর বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন এটিইউ সদস্যরা। বিকেলে বাড়ির গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াত টিম ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযানে তিনটি আইডি বোমা, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।








