এরআগেও বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জেল খাটতেও হয়েছে কয়েক দফায়। কিন্তু এবার আর গ্রেপ্তার কিংবা হাজত বাস নয়, সোজা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলো ইরানের আদালত। মূলত গানে গানে দেশটির সরকারের সমালোচনা করেছিলেন জনপ্রিয় ইরানি র্যাপার তোমাজ সালেহি। আর এটাই কাল হলো তার।
তোমাজ সালেজির মৃত্যুদণ্ডের কথা সম্প্রতি টুইট করে জানিয়েছেন তারই আইনজীবী আমির রেসিয়ান। গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) টুইট করে তিনি বলেছেন, ‘তোমাজ সালেহিকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে।’
যে টুইটকে সূত্র ধরে বিশ্বের নামিদামি সংবাদমাধ্যমগুলোতেও খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। সংগীতের সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বিশ্বের বহু নামকরা সংগঠন, শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
গ্র্যামি থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৃষ্টিশীল মাধ্যমে শিল্পীর অনুভূতি প্রকাশ কোনোভাবেই তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে না। আমরা বিশ্বের সব শিল্পীর পাশে আছি। তার স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য আমরা কাজ করে যাবো।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের কেউ তোমাজের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মুখ খোলেননি। তেহরানে হিজাবকাণ্ডে আটক কুর্দি তরুণী মাসা আমিনি পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ২০২২ সালে ইরানজুড়ে যে সরকারবিরোধী তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলন হয়েছে, তার সমর্থক ছিলেন খ্যাতনামা ব়্যাপ শিল্পী তোমাজ সালেহি। ইরানজুড়ে যখন আন্দোলন হচ্ছিল, তখন ৩৩ বছর বয়সী তোমাজ সালেহি দেশের দুর্নীতি, শাসনব্যবস্থা, সরকারের নানারকম সমালোচনা করে গান করেন।
এর আগের বছর অর্থ্যাৎ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরেও গানের জন্য তাকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করে ইরান সরকার। দশ দিন হাজত বাস করেন তিনি। পরে একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলো ইরানের আদালত।







