মানসিক নির্যাতনের শিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী কাজী সুমাইয়াকে হলের সিটে তুলতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর। এ সময় হলে থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীও আটকে পড়েন। এছাড়া ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছনার স্বীকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত চার সাংবাদিক।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল গেইটে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর ছাত্র উপদেষ্টাকে উদ্ধার করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে মিটিং চলছে বলে জানিয়েছেন সহ-উপাচার্য সুলতান-উল-ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে কাজী সুমাইয়া আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে হলের অপর দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা ভর্তি করা হয়। সুমাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ৫০১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত দুইজন হলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি বালা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার দোলন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কাজী সুমাইয়াকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের সিটে তুলে দিতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা। এসময় সংগীত বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শায়লা তাসমিন ওই হলে ছাত্র উপদেষ্টার সাথে কথা বলতে আসেন। পরে কথা বলার এক পর্যায় হল গেইটে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে শায়লা তাসমিন রিকশা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা হল গেটে উপস্থিত হন। তাদের শিক্ষককে অপমান করা হয়েছে উল্লেখ করে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা হল গেইটের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। এসময় তারা ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রশাসনবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেন। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছনার স্বীকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত চারজন সাংবাদিক।
পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ও হুমায়ুন কবীর, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, সহকারী প্রক্টরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূরকে বের করে আনতে চাইলে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদেরকে বাধা দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন।
সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ছাত্র উপদেষ্টার হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন তাদের বিভাগের সভাপতি।
এ বিষয়ে সংগীত বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শায়লা তাসমিন বলেন, আমি যখন জানতে পারি আমার বিভাগের শিক্ষার্থী দোষী সাব্যস্ত হচ্ছে তখন আমি বঙ্গমাতা হলে যাই। সেখানে ছাত্র উপদেষ্টা আমাকে বলেন, ‘আপনি এখানে আসতে পারেন না। আপনাকে কেউ ডাকেনি। হু আর ইউ?’ তিনি এভাবে আমাকে অপমান করে আমাকে বের করে দেন। এতে অপমানিত হয়ে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ছাত্রী নির্যাতন করার ঘটনার তদন্তও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমরা দুই পক্ষের সাথে আলোচনায় বসেছি। তাদের সাথে কথা বলে সমাধান করব।







