সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন চলছে। এই মধ্যেই সারাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
টাঙ্গাইলে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষে পুলিশ সাংবাদিকসহ ৫০ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় শহরে থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীরা পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের পুরতান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পটুয়াখালীতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউনে বাউফল সড়কের মুরাদিয়া বোর্ড অফিস এলাকায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী ও পুলিশ। এতে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছ। সকাল ১০টার দিকে দুমকি আজিজ আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজ, জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ অন্যান্য স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা কোটাবিরোধী নানা শ্লোগান দিয়ে ব্রীজে এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে। পরে ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল যোগে সেখানে গিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। একইসাথে যোগ দেয় পুলিশ। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পাল্টা হামলা চালায়।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার টোরাগড় ও আলীগঞ্জ এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাওয়ায় ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ওপর। সকাল ১১টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। পুলিশ তাদেরকে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে আন্দোলনকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে পুলিশের ওপর।
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১টা থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়ে চলে পৌঁনে ২টা পর্যন্ত। এতে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটে ২ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ এবং আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক।

কিশোরগঞ্জে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৫০ জন আহত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের গৌরাঙ্গ বাজার থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সারা শহরে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর আন্দোলন শুরু করে। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঝালকাঠিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলায় শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। সকাল ১১ টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি দল বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ শুরু করে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে পুনরায় বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বরে এসে ঝালকাঠি-কাঠালিয়া-পাথরঘাটা সড়কের উপর অবস্থান নেয়। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা বদু মুন্সী ও তার ছেলে প্রিন্স মুন্সী অবস্থানকারীদের বলপ্রয়োগে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাঁধে।
নাটোরে কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে জেলা আওয়ামী লীগ ও পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ ৫জন গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় নাটোর শহর থমথমে বিরাজ করছে। এছাড়াও শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।
দিনাজপুর: কোটা সংস্কার আনদোলনে হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে এবং বৈষম্যমূলক কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে দিনাজপুরে জেলা আওয়ামী লীগের অফিসসহ ৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন।
আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহরের কালিতলা সাদেরস্বরী স্কুল মোড়ে সমবেত হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরে কোতোয়ালী থানা অতিক্রম করে দুপুর সোয়া ২টার দিকে শহরের বাসুনিয়াপট্রিস্থ জেলা আওয়ামী লীগের অফিস ঘেরাও করে। এসময় জীবন রক্ষার্থে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী অফিস ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অফিসে রক্ষিত চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্র এবং অফিসের সামনে রাখা ৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে পরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জ্বালিয়ে দেয়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন কর্মী ঘটনা স্থলে আসলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়। পরে পুলিশের বাঁধার মুখে আন্দোলনকারিরা প্রেসক্লাব অতিক্রম করে থানার সামনে দিয়েই পিছু হটে চলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে।







