চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আর্জেন্টিনা আজ সবদিক দিয়েই এগিয়ে: জোসী

সাবেক তারকা ফুটবলার

Nagod
Bkash July

কাতার বিশ্বকাপ যেন বিস্ময়ে ভরা এক বিশ্বকাপ। গতকাল গ্রুপপর্বের খেলার শেষদিনেও ছিল তাই বিস্ময়ে ভরা। মধ্যরাতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ‘অদম্য সিংহ’ ক্যামেরুন জয়লাভ করবে এটি ছিল একদমই কল্পনার বাইরে।

Reneta June

ব্রাজিল পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে না নামলেও ক্যামেরুনকে হারানোর প্রত্যয়ে তাদের কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু ক্যামেরুন বলে কথা। মাটি কামড়িয়ে থাকা দলটি শুরুতে ব্রাজিলের নিজস্ব ধারার খেলার কাছে কিছুটা ছিন্নভিন্ন হলেও পাল্টা আক্রমণে কখনই পিছপা ছিল না। ব্রাজিল অসংখ্যবার গোলমুখে আক্রমণ শানালেও প্রথমার্ধে গোল বের করতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও সময় গড়িয়ে যেতে থাকে। এমন এক প্রেক্ষাপটেই ম্যাচের নব্বই মিনিটে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে দেন ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার ভিনসেন্ট আবুবাকার। এই জয়ে ক্যামেরুন দ্বিতীয় পর্বে উঠতে না পারলেও ব্রাজিলের পরাজয়ে যেন প্রথম রাউন্ডে সুপারহিট দলগুলোর পরাজয়ের ষোলোকলা পূর্ণ হয়। এর আগের ম্যাচে রাত ৯টায় সাউথ কোরিয়া নির্বিবাদে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা পর্তুগালকে ভীষণভাবে চেপে ধরে জয়লাভ করে। খেলার শুরুতে পর্তুগাল এগিয়ে গেলেও সাউথ কোরিয়া নিজেদের উজাড় করে দিয়ে দুই গোল করে।

এই বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে মহারথীদের মধ্যে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, পর্তুগাল ব্রাজিল— প্রথম পর্বে কেউই নিজেদেরকে পরাজয় মুক্ত রাখতে পারেনি। ধারণা করা হয়েছিল ব্রাজিল বোধ হয় পারবে, গ্রুপ ম্যাচে সত্যিই অপরাজেয় থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়াতে এরকম উল্লাসও ছিল ব্রাজিলের সমর্থকদের।

কিন্তু ‘অদম্য সিংহ’খ্যাত ক্যামেরুন বিশ্বসেরা ব্রাজিলকে হারিয়ে পুরো রাতটাকেই অন্যভাবে রাঙিয়ে তোলে। ক্যামেরুনের এমন জয়ে ব্রাজিল ভক্তরা কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে এসেছে। এতদিন ধরে ব্রাজিল ভক্তরা পরাজয়ের তিলক থেকে দূরে থাকলেও আবুবাকারের হেড ব্রাজিলকে পরাজয়ের কাতারে এনে সব অহংকার লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।

ব্রাজিলের পরাজয়ের পর এটি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে বিশ্ব ফুটবলে কাউকে আর অজেয়, দুর্ভেদ্য একক শক্তি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। সন্দেহ নেই প্রথম পর্বে বড় দলগুলোর পরাজয়, আবার বেলজিয়াম, জার্মানির মতো লড়াকু টিমের বিদায় সত্যিই বিশ্বকাপের বিস্ময়! সামনে কি আরও অনেক বিস্ময় অপেক্ষা করছে?

নতুন কেউ কি এবার বিশ্বকাপ জয় করবে? এমন সব প্রশ্ন যখন চারিদিকে তখন দ্বিতীয় পর্বের খেলার বল গড়াবে আজ রাতে। এই পর্ব আরও জমজমাট পর্ব। কেননা এই পর্বে হারলেই বিদায়। কিন্তু কে চায় পরাজয়ের ব্যথা আর বেদনায় কাঁদতে? কিন্তু আজ থেকে শুরু হবে সেই বেদনার গল্প।

নকআউট পর্বে আজকের প্রথম ম্যাচে লড়বে নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্র। রাত ১ টায় দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রেলিয়া, গ্রুপ ‘সি’র চ্যাম্পিয়ন দলের সাথে গ্রুপ ‘ডি’র লড়াই। প্রথম ম্যাচ নিয়ে আমাদের আমজনতার তেমন আগ্রহ নেই। যারা ফুটবল ভালোবাসেন এবং ফুটবলের রূপরস পছন্দ করেন তারা চাইবেন আজ নেদারল্যান্ডসই জয়ী হোক। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়ে রাজ্যের ভালোবাসা, আবেগ।

আর্জেন্টিনা মানেই বাংলাদেশের বিরাট এক সমর্থক গোষ্ঠীর বুক বিদীর্ণ আবেগের স্ফুরণ। যে আবেগের শেষ নেই, যে আবেগ গতিহারা, দিশাহারা। আজ কি ভালোবাসায় মোড়ানো সেই আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারবে? নাকি আর্জেন্টিনা হতাশায় ডুবিয়ে দেবে? এ প্রশ্ন করেছিলাম আশির দশকে ঢাকার মাঠের নয়ন মনোহন তারকা ফুটবলার কাজী জসীম উদ্দিন জোসীর কাছে।

ঢাকার মাঠের অদম্য কাজী জোসী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেই খেলেছেন দীর্ঘদিন। জোসীর বল পায়ে সেই ক্ষিপ্র দৌড় এখন আমাদের স্টেডিয়ামে ছবি হয়ে আছে। জোসী বলেন, ‘আজ সব বিবেচনায় আর্জেন্টিনাই এগিয়ে আছে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। খেলার সার্বিক গুণগত মান, নান্দনিকতা, পজিশন- এসব দিয়ে বিচার করলে আর্জেন্টিনা টপ গ্রেডেড টিম। আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৯০ ভাগ, আর বাদবাকিটুকু প্রতিপক্ষের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনার সাথে তুলনামূলক আলোচনা করলে বলতে হয় টেকনিক্যালি এবং স্কিলের বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া অনেক পিছিয়ে আছে। অস্ট্রেলিয়া ডিরেক্ট প্লে করে বেশি। লম্বা ক্রসিং করে। সবসময় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে নিজেদের হাইট অ্যাডভান্টেজ নিতে চায়। ছোট পাসে খেলার অভ্যাস কম। কিন্তু আর্জেন্টিনা একেবারে উল্টো। মাঠে সবধরনের প্লে করতে অভ্যস্ত। ডিফেন্স লাইন থেকে মধ্যমাঠ হয়ে ফরোয়ার্ড- সবখানেই সমান পারদর্শী। সুতরাং আর্জেন্টিনার সাথে অস্ট্রেলিয়া পেরে উঠবে না। কৌশলগত বিবেচনায় ম্যাচ কন্ট্রোলিং দ্রুত নেওয়ার তাগিদ থাকবে আর্জেন্টিনার।’

পোল্যান্ডের সাথে ম্যাচে অনেকগুলো তরুণ খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এসবকে প্রচণ্ড রকম ইতিবাচক হিসেবে দেখেন জোসী। তার মতে, ‘আর্জেন্টিনার মতো দলে যারা খেলার সুযোগ লাভ করে তারা অবশ্যই মানসম্মত ফুটবলার। অনেকগুলো অপশন বিচার বিশ্লেষণ করে তাদের জাতীয় দলে নেওয়া হয়। এখানে তাই কোনো বিষয়ে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। তরুণরা যারা আর্জেন্টিনা দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা কিন্তু বড় বড় ক্লাবেও খেলোয়াড়। আজকেও মাঠে তারা তাদের পূর্ণ শক্তি নামবে।’

সাবেক এই তারকা ফুটবলারের প্রিয় দল ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা নয়, স্পেন। তবে তারুণ্যে তার মন জয় করেছিল কিংবদন্তি ম্যারাডোনাই। এখন ভীষণ ভালোবাসেন লিওনেল মেসির খেলা। জোসীর মতে, ‘এরকম প্রতিভাসম্পন্ন ফুটবলার সবসময় আসে না, আসেওনি। এরকম প্লেয়ারদের কারণেই ফুটবল ভক্তের সংখ্যা বেড়েছে।’

এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার উত্থানকে খুবই পজিটিভ ঘটনা হিসেবে দেখছেন জোসী। বলেন, ‘দৃঢ় কমিটমেন্ট মানুষকে কতদূরে নিয়ে যেতে পারে তার বড় উদাহরণ জাপান। গ্রুপে জার্মানি এবং স্পেনকে তারা হারিয়েছে। এরচেয়ে বড় তৃপ্তির আর কী আছে। মাঠে তারা হাইয়েস্ট টেকনিক্যাল গেম খেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গেইম কন্ট্রোলে জাপান ছিল অনবদ্য। ডিফেন্স লাইন অটুট রেখে প্রতিপক্ষের ক্রসিং চ্যানেল বন্ধ করে প্রতি আক্রমণে যাওয়া, সাফল্য তুলে আনা— জাপানের এই স্পিরিট, এই ক্ষমতা এবারের বিশ্বকাপের বাড়তি আনন্দ। জাপান রচিত এই ইতিহাস এখন সবার কাছে নিঃসন্দেহে বড় অনুপ্রেরণা।’

BSH
Bellow Post-Green View